চার্লি চ্যাপলিন যৌন নিপীড়ক ছিলেন! - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 2 July 2019

চার্লি চ্যাপলিন যৌন নিপীড়ক ছিলেন!

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারির কোনো এক রাতে কিংবদন্তি নির্মাতা চার্লি চ্যাপলিন স্মরণে আয়োজিত এক ভোজসভা হলিউড তারকাদের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে অস্কারজয়ী প্রযোজক যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হার্ভি ওয়াইনস্টিনও ছিলেন
ভোজসভার একপর্যায়ে সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি চার্লি চ্যাপলিনকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন? হার্ভির উত্তর ছিল- ‘আমার আদর্শদের মধ্যে চার্লি একজন, অবশ্যই।সময় যত গড়াচ্ছে ওয়াইনস্টিনের আদর্শের সঙ্গে চার্লির মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। বিপুল সম্পদ, ক্ষমতা খ্যাতির অধিকারী ছিলেন চার্লি চ্যাপলিন এবং যথারীতি হার্ভি ওয়াইনস্টিনও তা-ই। প্রতাপশালী হওয়ায় দুজনই তাদের ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছিলেন ভিন্নভাবে
চ্যাপলিনের জীবনী ঘাঁটলেই উঠে আসে তার বৈবাহিক জীবন যৌনস্পৃহা নিয়ে বিভীষিকাময় ঘটনা। তাকে ঘিরে নারীদের যে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ছিল, তা প্রমাণ করে হলিউডে নারীদের ওপর ধরনের নিপীড়ন আসলে নতুন কিছু নয়
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে চার্লি চ্যাপলিন ছবি নির্মাণ শুরু করেন। সে সময় চ্যাপলিনের ছবিতে প্রধান চরিত্রে যেসব নারী অভিনয় করতেন, তাদের প্রত্যেকেই তার সঙ্গে শয়নকক্ষে যেতে হতো। চ্যাপলিনের নির্মিত প্রথম কমেডি ছবির নায়িকা এডনা পারভিয়েন্স থেকে শুরু করে ১৯৪০ সালেদ্য গ্রেট ডিক্টেটর’-এর অভিনেত্রী প্যালেট গডার্ড পর্যন্ত সবাইকেই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে
শুধু সিটি লাইটসের ভার্জিনিয়া শেরিল ছিলেন ব্যতিক্রম। অবশ্য ছিপছিপে গড়নের অভিনেত্রীর দিকে তাকানোর মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন চ্যাপলিন। চ্যাপলিনের এক সহকারী জানান, পুরো ছবির শুটিংয়ে অভিনেত্রীর দিকে অসংযত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তিনি
তবে সে সময় চলচ্চিত্রজগতের সরস গল্পের বিষয় হিসেবে চ্যাপলিনের ক্ষমতা থেকে বয়সটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ত্রিশোর্ধ্ব চ্যাপলিনের দৃষ্টি সবসময় কম বয়সী নারীর দিকেই পড়ত। তার দ্বিতীয় স্ত্রী লিটা গ্রেকে তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সেদ্য কিডছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। গ্রে মাত্র ১৬ বছর বয়সে সন্তানসম্ভবা হন এবং চ্যাপলিনকে বাধ্য করেন বিয়ে করতে। মাত্র দুই বছর পরই তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বিচ্ছেদের কারণে হলিউডে তখন তুলকালাম শুরু হয়ে যায়
চ্যাপলিনের খ্যাতিতে চিড় ধরতে শুরু করে পত্রপত্রিকায় গ্রেকে চ্যাপলিনের শিশু স্ত্রী বা কিশোরী স্ত্রী বলে উল্লেখ করা হয়
চ্যাপলিনের নারীপ্রীতিকে কাজে লাগিয়ে অনেক অতি উৎসাহী অভিনেত্রী নিজের জীবন নিয়ে জুয়া খেলতে চাইতেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ১৯২০ সালে চ্যাপলিনের প্রথম সহ-অভিনেত্রী প্রেমিকা এডনা পারভিয়েন্স মদের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েন যে, চ্যাপলিন পরবর্তী ছবিগুলোয় তাকে আর নিতে পারেননি। শোনা যায়, প্রেমিক চ্যাপলিনের উদাসীনতাই তাকে মদে আসক্ত হতে বাধ্য করে
ভবঘুরে চরিত্রে নিজেকে প্রকাশ করা চার্লি ছিলেন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। সে সময় ডানপন্থী আমেরিকানরা যখন তাকে বামপন্থী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইল, তখনই আকস্মিকভাবে তিনি নিরীহ আমেরিকান নারীদের ওপর হিংস্র শিকারি হিসেবে আবির্ভূত হলেন। যখন তার কোনো ছবি পছন্দ হতো না বা তিনি সমাজতন্ত্রের পক্ষে অতিরিক্ত প্রচারণা করতেন, তখন সাধারণ মানুষও তার শয়নকক্ষ নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠতে লাগল
চার্লি চ্যাপলিনের এসব স্ক্যান্ডাল ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের মতো না হলেও হলিউডে ক্ষমতার অপব্যবহার কী রূপে হয়েছে, সেটিই প্রকাশ করে; যা চ্যাপলিন থেকে শুরু করে রোমান পোলানস্কি, উডি অ্যালেন পর্যন্ত গড়িয়েছে। হস্তান্তর হয়েছে তা এক পুরুষ থেকে অন্য পুরুষে। আসলে ওয়াইনস্টিনের স্ক্যান্ডালকে মোটেও বিনা মেঘে বজ্রপাত বলা যাবে না


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad