পটাশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান। এটি দেহে ঝটপট
শক্তি সরবরাহ করে। তাছাড়া স্ট্রোক ও হূদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। কলা হচ্ছে এমন একটি ফল, যাতে রয়েছে
উত্কৃষ্ট মানের পটাশিয়াম। সকালের নাশতায় কলা রাখা ছাড়াও শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি
পূরণে খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখা যেতে পারে তা হলো—
আলু:
আলুতে রয়েছে শর্করা ও প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। তবে আলু খোসাসহ
রান্না করে খেতে পারলে পুষ্টিমান বেশি থাকে। কারণ রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখে
আলুর খোসার মধ্যকার উপাদান। সাদা আলু ও মিষ্টি আলু দুটোতেই রয়েছে উচ্চমানের
পটাশিয়াম। একটি মিষ্টি আলুতে ৫৪১ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম থাকে। অন্যদিকে
মাঝারি আকারের সাদা আলুর ক্ষেত্রে এ পরিমাণ ৯৫০ মিলিগ্রাম।
বিটরুট:
সালাদে বিটরুট ব্যবহার করে শরীরে পটাশিয়ামের জোগান দিতে পারেন। মাত্র
এক কাপ বিটে পাওয়া যেতে পারে ৬৫৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এছাড়া রয়েছে ফলেট, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আঁশ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ‘সি’, আয়রন ও ভিটামিন
বি-৬।
মটরশুঁটি:
মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। এক কাপ মটরশুঁটিতে থাকে
২৪৪ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম, যা প্রতিদিনকার প্রয়োজনের চার
ভাগের এক ভাগ। এতে আরো রয়েছে ফাইবার, প্রোটিন ও লোহা।
তরমুজ:
এখন বাজারে তরমুজ সহজলভ্য। তরমুজ ফল হিসেবে খাওয়া ছাড়াও জুস ও স্মুদি
করে খাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালীন এ ফলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম। পাশাপাশি
তরমুজের প্রধান খাদ্য উপাদান হচ্ছে লাইকোপেন, যেটি এক ধরনের
উদ্ভিদ পিগমেন্ট। ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে লাইকোপেনের ভূমিকা অনেক।
দই:
দইয়ে ক্যালসিয়াম ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। চেষ্টা করুন
প্রতিদিন দই খেতে। তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো দই বর্জন করতে পারলেই ভালো। যেহেতু
এখন গরমকাল, তাই দই দিয়ে লাচ্ছি তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে। এটি যেমন পেট পরিষ্কার
রাখতে সাহায্য করে, তেমনি শরীরে পটাশিয়ামের জোগান দেয়।
গাজর ও টমেটো:
কমলা রঙের গাজর ও লাল টমেটোতে রয়েছে পটাশিয়াম। সালাদ বা জুস করে
খাওয়া যেতে পারে সুস্বাদু এ সবজি দুটো। একসঙ্গে বা আলাদা করে জুস করা যেতে পারে।
মাছ:
মাছে শুধু পটাশিয়ামই নয়, আছে কোলেস্টেরল
কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা মূলত হূিপণ্ডকে সুস্থ-সবল
রাখতে সহায়তা করে।
আখের গুড়:
চিনি বা মধুর বিকল্প হিসেবে গুড় খেতে পারেন। পটাশিয়ামসমৃদ্ধ এ খাবারে
মিষ্টির ক্ষতিকারক প্রভাব কিছুটা কম।
ফলমূল:
স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী খাদ্যতালিকায় ফল থাকবে না—তাই কি হয়! রাখা
যেতে পারে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ফল খেজুর, ডাব, কাঠবাদাম ইত্যাদি।

No comments:
Post a Comment