
২০১২-এর অ্যানিমেশন ছবি ‘হোটেল ট্রানসিলভ্যানিয়া’-তে কাউন্ট ড্রাকুলা যখন তাঁর কাসল-কে ভূত-প্রেতদের একান্ত হোটেলে পরিণত করেছিলেন, তিনিও আবেসিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপারটাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
সেখানে ভূতেদের মূল সমস্যা ছিল মানুষকে নিয়ে। তাদের হোটেলে কোনও ইহলৌকিক যাতে ঢুকে পড়তে না-পারে, তার জন্য হোটেল মালিক ড্রাকুলাকে সব রকমের বন্দোবস্ত নিতে হয়েছিল। কিন্তু ব্যপারটা যদি উল্টো হয়?
অর্থাৎ, মানুষের জন্য নির্ধারিত হোটেলে যদি ভূতের আনাগোনা অবাধ হয়, তখন? সেই হোটেলের ‘বদনাম’ হতে বাধ্য। তেমনটা কিন্তু একেবারেই ঘটেনি লিভারপুলের অ্যাডেলফি হোটেলের ক্ষেত্রে। ‘হানাবাড়ি’ হিসেবে খ্যাত এই হোটেলের জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি।
অ্যাডেলফি হোটেল লিভারপুলের অন্যতম প্রাচীন হোটেল। বহুকাল ধরেই সেখানে ‘তেনাদের’ বাস, এমন একটা জনশ্রুতি ছড়িয়ে রয়েছে গোটা শহরে। ইদানীং অ্যাডেলফি হোটেল ইউকে-র সব থেকে ভৌতিক হোটেল হিসেবে পরিগণিত।
এই ভূততত্ত্ব বিচারে সেখানে হাজির হয়েছিলেন বিখ্যাত প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর টম স্লেমেন। ক’রাত সেখানে কাটিয়ে স্লেমেন রায় দিয়েছেন, সেই হোটেল সত্যিই ভূতগ্রস্ত। স্লেমেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্বয়ং নাকি সেখানকার অশরীরী বোর্ডারের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই হোটেলের একটি বিশেষ স্যুইটেই সেই আত্মামশায়ের দেখা মেলে। আর মিলবে না-ইবা কেন, সেই বিশেষ স্যুইটটির নকশা নাকি তৈরি হয়েছিল ১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া জাহাজ টাইটানিকের ফার্স্ট ক্লাস স্মোকিং লাউঞ্জের আদলে।
১৯১২ সালেই এই হোটেলের বর্তমান বাড়িটি তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে এই স্যুইটটি নির্মাণ করেছিলেন টাইটানিকের লাউঞ্জ-নির্মাতাই। এমন এক স্যুইটে যে ভূতের দেখা পাওয়া স্বাভাবিক, সেটা বলাই বাহুল্য।
অ্যাডেলফি-র মাদার গ্রুপ ব্রিটানিয়া হোটেলস-এর এক মুখপাত্র স্বীকার করেছেন, অ্যাডেলফি-তে ভৌতিক অভিজ্ঞতা অনেকেরই ঘটেছে বলে তিনি জ্ঞাত রয়েছেন। তবে, অ্যাডেলফি-র ভূতবৃন্দ কারোকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ভয় দেখায়নি।
কখনও দেখা গিয়েছে কিছু ছায়াশরীর, কখনও বা বাইরে থেকে কেউ দেখতে পেয়েছেন জানলা দিয়ে কেউ বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে রয়েছে। তড়িঘড়ি উপরে উঠে দেখা গিয়েছে, সেই জানলাটি বন্ধ। আপাতত ভূতান্বেষীরা দেদার ভিড় জমাচ্ছেন অ্যাডেলফি হোটেলে।
No comments:
Post a Comment