বিবিসির সুপ্রিয়া ভোহরা বলছেন , ঘটনার শুরু ১৯৮৬ সালে। তখন থেকেই
এই গ্রামের বাসিন্দারা জানতেন যে গ্রামটির আর কোন চিহ্ন থাকবে না।
ঐ সালেই প্রদেশটিতে প্রথম বাঁধ
নির্মাণ করে এবং এর পরিণতিতে গ্রামটি সম্পূর্ণ জলে নিমজ্জিত হয়ে যায়। এই গ্রামটি
এক সময় দক্ষিণ- পূর্ব গোয়ার একটি সমৃদ্ধশালী গ্রাম ছিল।
কিন্তু প্রতিবছর মে মাসে জল সরে
গেলে দেখা যায় গ্রামটিতে কি কি রয়ে গেছে।
কাদামাটি, গাছের গুড়ি, ক্ষয়প্রাপ্ত ঘরবাড়ি, ভেঙ্গে পড়া ধর্মীয় উপাসনালয়, গৃহস্থালির নানা জিনিস আর
পরিত্যক্ত বিরান ভূমি। এইসব কিছু দেখতে পাওয়া যায় জল সরে গেলে।
এই গ্রামের জমিতে ফলন বেশি হয়
এমন কথা প্রচলন ছিল। তিন হাজার মানুষের বাস ছিল এখানে।
ধান চাষ, আর গ্রামকে ঘিরে রাখতো নারকেল গাছ, ক্যাসুনাট, আম এবং কাঁঠাল গাছে।
কিন্তু দৃশ্যপট নাটকীয় ভাবে বদলে
গেল যখন ১৯৬১ সালে গোয়া পর্তুগীজদের থেকে স্বাধীন হয়ে গেল।
প্রথম মূখ্য মন্ত্রী গ্রামবাসীদের
খবর দিলেন যে যদি প্রদেশের প্রথম এই বাঁধটি করা হয় তাহলে দক্ষিণ গোয়ার সবাই
উপকৃত হবে।
এই গ্রামের সবাইকে পাশের গ্রামে
সরিয়ে নেয়া হয় আর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় সেখানে অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে
এটাও জানানো হয়।
তাদের ভূমি এবং ক্ষতিপূরণ দেয়া
হয় তবে এই বাঁধ থেকে জল ঐ গ্রাম পর্যন্ত পৌছায়নি যেখানে তাদের সরিয়ে নেয়া
হয়েছে।
তারপরেও কারদি'র বাসিন্দারা অপেক্ষায় থাকেন মে
মাসের।
যখন জল নেমে যায় তখন তারা তাদের
হারিয়ে যাওয়া গ্রামে ফিরে যান, নিজের
ঘরবাড়ি ধংসাবশেষ দেখেন, ভেঙ্গে
পড়া প্রার্থণালয়ে প্রার্থনা করেন। আর স্মৃতিচারণ করেন।
No comments:
Post a Comment