খরায় ছাড়ছে ঘরবাড়ি - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 13 June 2019

খরায় ছাড়ছে ঘরবাড়ি




ভারতের বহু গ্রাম জনমানব শূন্য হয়ে পড়ছে। তীব্র খরায় বসতভিটা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন গ্রামটির বাসিন্দারা। খরায় জলের সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। জল সঙ্কট সমাধানের কোন সম্ভাবনা না দেখতে পেয়ে অসুস্থ ও প্রবীণদের রেখে অন্যরা অন্যত্র চলে গেছেন আগেই। এভাবে শত শত গ্রাম জনমানবহীন হয়ে পড়ছে।


সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতজুড়ে উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। রাজধানী দিল্লীতে সোমবার এ যাবতকালের মধ্যে জুনে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন দিল্লীর তাপমাত্রা ছিল ৪৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর রাজস্থানের চুরু শহরে সম্প্রতি তাপমাত্রা গিয়ে ঠেকে ৫০ দশমিক আট ডিগ্রী সেলসিয়াসে। ফলে এটি হয়ে ওঠে এ গ্রহের সবচেয়ে উত্তপ্ত শহর। অন্যদিকে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই থেকে ২৫০ মাইলেরও কম দূরত্বের গ্রামের পর গ্রাম খালি হয়ে গেছে। অনুমান করা হচ্ছে এ অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। জলের এ চরম সঙ্কটে অসুস্থ আর প্রবীণদের গ্রামে রেখে অন্যরা পালিয়ে গেছেন।


মহারাষ্ট্রের বিদ থেকে ২০ মাইল দূরবর্তী গ্রাম হাতকরবাড়ি ইতোমধ্যে প্রায় খালি হয়ে গেছে। এ অঞ্চলের কূপ ও হস্তচালিত নলকূপগুলো ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শুকিয়ে গেছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকে শুরু হওয়া এ খরায় রাজ্যের লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। সরকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৭২ সালের দুর্ভিক্ষের চেয়েও খারাপ অবস্থা হয়েছে এ খরায়।


 ওই দুর্ভিক্ষে আড়াই কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। মে মাসের শেষ নাগাদ হাতকরবাড়ি গ্রামের প্রায় সবাই অন্যত্র চলে গেছে। গ্রামের দুই হাজারেরও বেশি বাসিন্দার মধ্যে মাত্র ১০-১৫ পরিবার গ্রামটিতে অবস্থান করছে।মহরাষ্ট্রের প্রায় ৭২ শতাংশ আর পার্শ্ববর্তী কর্নাটকের ৮০ শতাংশ জেলা খরা ও ফসলহানির কবলে। এই দুই রাজ্যের প্রায় ৮০ লাখ কৃষককে জীবন চালাতে কঠোর সংগ্রাম করতে হচ্ছে।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad