তাপমাত্রার পারদ যত বাড়ছে ততই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম। আর গরম মানেই তো ওনাকে নিমন্ত্রণপত্র দিয়ে স্বাদরে ডেকে নিয়ে আসা। বলছি ঘামাচির কথা। গরম পড়লেই সারা শরীরে ওনার অবাধ বিচরণ। আবৃত অংশ হলে তবুও মানা যায়, কিন্তু মুখ-হাত-গলার মত শরীরের এক্সপোস জায়গাগুলোতে এই ঘামাচির সারজিক্যাল স্ট্রাইক মোটেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই এই সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে অনেকেই বাজার চলতি পাউডার বা লোশন ব্যবহার করে থাকেন।
তবে চিকিত্সকরা বলছেন অন্য কথা। ঘামাচির
সমস্যা থেকে বিরত থাকতে চাইলে সবচেয়ে আগে যা জরুরি তা হল, নিজেকে
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। ঘামাচির হাত থেকে বাঁচতে পাউডার মাখলেও পরদিন
অবশ্যই শরীরের ওই অংশ জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলতেও পরামর্শ দিচ্ছেন
চিকিৎসকরা। কারণ, পাউডারের গুঁড়োয় ত্বকের লোমকূপ ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে সমস্যা বাড়ে বই কমে না। অন্যদিকে, ব্রণ, ফুসকুড়ি সহ আরও নানা সমস্যা
মাথা চাড়া দিতে পারে।
জেনে নিন ঘামাচির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার ৫ টি ঘরোয়া টোটকা :-
- ঘামাচি সমস্যার মোকাবিলায় বরফ অত্যন্ত কার্যকরী। একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে মুড়ে বরফের টুকরো ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের উপর ৮-১০ মিনিট ঘষুন। এর ফলে ঘামাচি মরে গিয়ে ত্বকের জ্বালা, চুলকানি ভাব অনেকটাই কমে যাবে।
- স্নানের সময় ডেটল বা সুথল দিয়ে স্নান করতে পারেন।
- ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের উপর পাতি লেবুর রস লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে স্নান করে নিন।
- মুলতানি মাটি আর গোলাপ জল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ঘামাচির অস্বস্তি কমাতে আন্দাজ মতো মুলতানি মাটির সঙ্গে আধা কাপ গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্ট ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের উপর ভাল করে মাখিয়ে দিন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ত্বকের জ্বালা, চুলকানি ভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে। দু’-তিন দিন এই পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারলে ঘামাচির সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।
- ত্বকের পরিচর্যায় বেসন অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। এক কাপ বেসনের সঙ্গে আন্দাজ মতো জল মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিন। এই পেস্ট ঘামাচি আক্রান্ত ত্বকের উপর ভাল করে মাখিয়ে দিন। মিনিট পনেরো পর ঠাণ্ডা জলে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি পর পর দু-তিন দিন কাজে লাগাতে পারলে ঘামাচির সমস্যা থেকে সহজেই নিস্তার পাওয়া যাবে।

No comments:
Post a Comment