যে পাঠক ওয়েব মাধ্যমে স্বচ্ছন্দ, সেটা সার্চ ইঞ্জিন-সোশ্য়াল মিডিয়া হোক অথবা স্ট্রিমিং প্ল্য়াটফর্ম, তাঁদের কাছে সিরিয়াল কিলিং অবশ্য়ই নতুন কোনও বিষয় নয়। এই সংক্রান্ত দেশী-বিদেশী বহু তথ্য হয়তো তাঁদের জানা। কিন্তু বাংলা ওয়েব মাধ্যমে যখন এই বিষয় নিয়ে এমন একটি সিরিজ তৈরি হয়, যেখানে খুনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে খুনী হয়ে ওঠার গল্প, তখন তা নিঃসন্দেহে বিশেষ হয়ে ওঠে। আগামী ১১ জুন জিফাইভ অ্য়াপে মুক্তি পেতে চলেছে টিভিওয়ালা মিডিয়া প্রযোজিত ওয়েব সিরিজ, ‘ওয়াটার বটল’। এই সিরিজ দিয়েই ওয়েব মাধ্য়মে আসছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী।
এই সিরিজের সিরিয়াল কিলার একজন শিশু হত্যাকারী। এদেশে শিশু সিরিয়াল কিলিংয়ের বেশ কিছু ঘটনা রয়েছে, তার মধ্য়ে সবচেয়ে চাঞ্চল্য়কর ছিল ২০০৬ সালে নয়ডার নিঠারি কাণ্ড। কিন্তু ‘ওয়াটার বটল’-এর গল্পের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও মিল নেই। একটি সামান্য রেফারেন্স রয়েছে, সেটি দর্শক দেখলেই বুঝবেন। সিরিয়াল কিলিংয়ের এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে একটু অন্য়ভাবে দেখতে চান, সিরিজের চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক তথাগত মুখোপাধ্যায়। এটা একটা অবসেশন কিলিংয়ের গল্প। ছোটবেলার অবসেশন থেকে সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনি। মোট পঞ্চাশটি চরিত্র রয়েছে এই সিরিজে। প্রত্য়েকটি চরিত্রেরই কিছু না কিছু ক্রাইসিস রয়েছে। যে খুনী, তারও। প্রত্যেকটা চরিত্রেরই এই গল্পের জার্নিটার মধ্যে দিয়ে একটা উত্তরণ ঘটে”, জানালেন তথাগত।
মোট চারটি এপিসোডে ভাঙা হয়েছে এই মিনি সিরিজকে। এক একটি এপিসোড ৪৫ থেকে ৫০ মিনিটের। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ৫২টি লোকেশনে শুটিং হয়েছে। নিঃসন্দেহে বাংলা ওয়েব মাধ্যমে এ বছরের অন্যতম বৃহৎ প্রজেক্ট এই সিরিজ। বৃহৎ প্রথমত, প্রযোজনার আকারে এবং দ্বিতীয়ত অবশ্যই কাস্টিংয়ে। প্রধান দুই চরিত্রে রয়েছেন রজতাভ দত্ত এবং চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। ”একজন পুলিশ অফিসার, যার বয়স ষাট পেরিয়েছে, এখন আর কাজের প্রতি তাঁর মন নেই, তাঁর জীবনটা হয়ে উঠেছে বিদেশে প্রবাসী নাতিকেন্দ্রিক কিন্তু একটা সময় তিনি ছিলেন এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট… এমন একটা চরিত্রে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী ছাড়া আর কাউকে ঠিক ভাবতে পারিনি”, জানালেন পরিচালক।
ইতিমধ্য়েই সোশাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছে এই সিরিজের টিজার, ট্রেলার ও মোশন পোস্টার। খুবই হাড়-হিম করা হতে চলেছে এই সিরিজটি সেটা এক ঝলক দেখলেই বুঝতে পারবেন। তবে এই সিরিজে খুনী একজন নয়, দু’জন। সাধারণত দু’ধরনের সিরিয়াল কিলিং হয়, রেজ কিলিং যা কোনও বিশেষ রাগ থেকে আসে আর অন্য়টা হল অবসেশন কিলিং। আমরা এখানে এই দুটো বিষয়কেই রেখেছি। গল্পটা খুবই মাল্টিলেয়ারড”, বলেন তথাগত, ”একজন খুনীর মাথায় তো লেখা থাকে না সে খুনী। সে আর পাঁচটা লোকের মতোই বাজার করে, হয়তো বাগানও করে বাড়ির পিছনে, কিন্তু ঠিক কোন ক্রাইসিস থেকে সে খুনী হয়ে ওঠে, গল্পটা সেই নিয়েই। এখানে কোনও পয়েন্ট অফ ভিউ নেই। অবসেশন কিলিং একটা ব্যাধি, আমরা ব্যাধিটাকে ব্যাধির মতো করেই দেখাতে চেয়েছি।”
from ap bangla | অ্যানালিটিক্যাল প্রেস | Analytical Press | http://bit.ly/2I2J0GB

No comments:
Post a Comment