বিনোদন ডেস্ক: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বেড়েই চলছে। এবছর তো উষ্ণায়ন নতুন মাত্রায় পৌঁছে গেছে। গত ১০ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৩৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে বলছেন বিজ্ঞানীরা। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার, বনভূমি কমে যাওয়া, গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন বৃদ্ধি এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পর্যাবৃত্ত পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবে এমনটি হচ্ছে। আর এই বহমান তাপমাত্রা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যাবে। ফলে হিটস্ট্রোকসহ নানা ধরনের রোগ যেমন বাড়বে তেমনি মানুষের কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা যাবে কমে। ইকোলজিক্যাল (বাস্তুতন্ত্র) সমস্যার সৃষ্টি হয়ে মাছ, ঘাস ও কৃষির ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় কৃষি খামার ও মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলোই এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমের ফলে জনস্বাস্থ্য, প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দু’ভাবেই প্রভাব পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্র স্বাভাবিক থাকে না। আর চলতি বছর এল নিনোর প্রভাবে ঋতুচক্র আরও কম (শীতকালে শীত) অনূভূত হবে। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে অস্বস্তিকর গরম চরম আকার ধারণ করতে পারে।
এল নিনো বন্যা, খরা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। উন্নয়নশীল যেসব দেশ কৃষিকাজ এবং মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, তারাই এল নিনো দ্বারা অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ১/২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি গরম হয়ে উঠেছে। বর্তমানে যে এল নিনোর প্রভাব ছড়িয়েছে তা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী। গত ১৭ মাস ধরে এল নিনো অবস্থান করছে যাকে অনেকেই ডাবল এল নিনো বলেও উল্লেখ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানায়, ১৯৫০ সালের পর থেকে এবারের এল নিনো সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।
গত ১০ মাসের গড় তাপমাত্রা যে কোনো বছরের একই সময়ের গড় তাপমাত্রার রেকর্ড ১৩৭ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা জানিয়েছে, চলতি সহস্রাব্দ শুরুর পর উষ্ণতম মাসের রেকর্ড ভাঙার ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি।
এ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের এই উষ্ণায়নের অন্যতম মূলে রয়েছে মানুষের উৎপাদিত গ্রিনহাউজ গ্যাস। এছাড়া এল নিনোর প্রভাবও রয়েছে। আর তার প্রভাবে চলতি বছরটিই পরিণত হতে পারে বিশ্বের ইতিহাসের উষ্ণতম বছরে।
(কপি ও ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

No comments:
Post a Comment