সন্দেশখালিতে দুই দলীয় কর্মীর মৃত্যু ও রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে সোমবার রাজ্য জুড়ে কালা দিবস পালন করছে বিজেপি। হাতে কালো ব্যাজ পরে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। একইসাথে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহুকুমায় ১২ ঘন্টা বনধ পালন করেছে তারা।
এদিকে সন্দেশখালিতে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খুললেন মমতা ব্যানার্জি। তার অভিযোগ ‘এই রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু নিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে বিজেপি। ভোটের পর তারাই সন্ত্রাস করেছে।’ যদিও প্রশাসন কঠোর হাতে তার মোকাবিলা করছে বলেও দাবি করেছেন মমতা।
সোমবার নবান্নে তিনি বলেন ‘নির্বাচনের পর দুই-তিনটে গন্ডগোল হয়েছে-সেটা হয়ে বিজেপির জন্য। নিজেদের ভগবান ভাবতে শুরু করেছে। ভাগবান থাকলেও চমকে উঠতো। কিন্তু সেগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি। দুইজন মারা গেলে, বলে দিচ্ছে পাঁচ জন মারা গেছে। মিথ্যা কথা বলছে।’ মৃত্যুর সংখ্যা পরিবেশন নিয়ে গণমাধ্যমেরও সমালোচনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য শনিবার তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার অন্তর্গত ভাঙিপাড়া গ্রাম। সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন তৃণমূল কর্মী বাকী দুইজন বিজেপি কর্মী। যদিও বিজেপির দাবি তাদের পাঁচজন কর্মী নিহত হয়েছে। এমনকি একাধিক গণমাধ্যমেও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
মমতার এই মন্তব্যের পরই এদিন কলকাতায় দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন ‘দুই জন মারা গেছে। তিনজন নিখোঁজ। তারাও খুন হয়ে থাকতে পারে আমাদের ধারনা।’
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশকে আরও শক্তিশালী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতার বার্তা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে ফেলে দেওয়ার যে চক্রান্ত হচ্ছে তা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। এদিন তিনি বলেন ‘বিজেপির মুখোশ যত দিন যাবে খুলে যাবে। আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে কোন লাভ নেই। আর আমার মুখ বন্ধ করে, সরকার ভাঙার চক্রান্ত করে বিজেপির লোকেরা যদি মনে করেন যে মমতা ব্যনার্জিকে স্তব্ধ করবেন...তবে মনে রাখবেন মৃত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ বড় ভয়ঙ্কর।’
মমতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিজেপি নেতা মুকুল রায় এদিন সাফ জানিয়ে দেন রাজ্যের মমতার সরকার ফেলার কোন ইচ্ছা তাদের নেই। তিনি বলেন ‘নিজের ঘরের যদি ১৪৭ জন এসে বলে আমরা মমতার বিরুদ্ধে তাহলে বিজেপি কি করবে? বিজেপি সরকারকে ফেলার কথা ভাবছে না। মমতা আগে নিজের ঘরটা সামওে রাখুক। মানুষ মমতার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’
সম্প্রতি লোকসভার নির্বাচনে বাংলাদেশি অভিনেতা ফিরদৌস আহমেদের তৃণমূলের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া এবং অঞ্জু ঘোষের বিজেপিতে যোগ দেওয়া-এই দুই প্রসঙ্গটিও উত্থাপন করেন মমতা ব্যনার্জি। তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে কেন অনুপ্রবেশ ঘটবে? নির্বাচনের সময় বিজেপির হয়ে প্রচারণা করতে বাংলাদেশ থেকে কারা এসেছিল? অনুপ্রবেশ কেবলমাত্র সংখ্যালঘুরাই করে না, অনেক লোকই করে। কিন্তু বিজেপি করলে দোষ হয় না।’ নাম না নিয়েই মমতা বলেন ‘বাংলাদেশের একজন বন্ধু একটা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, সেসময় তৃণমূলের একটি মিটিং দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছিল-পরে তার ভিসা বাতিল হয়ে গেল। আর কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হয়েও বিজেপি করলে সাত খুন মাপ সেটা কি করে হয়? আইন তার নিজের পথে চলবে-দুই জায়গায় দুই রকম হতে পারে না। এগুলো সবই পরিকল্পিত খেলা।’
পরে সন্ধ্যায় বিজেপির রাজ্য পার্টি অফিসে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাদেশের জামাত ঘনিষ্ট মুসলিম সন্ত্রাসীদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে।



No comments:
Post a Comment