বিনোদন ডেস্ক : পৃথিবীর বুকে কী ভাবে এল এত রাশি রাশি গুপ্তধন? কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেল এত এত সোনাদানা, মণিমুক্তো, রত্ন, মাণিক্য? কোথা থেকে এল? কার ভাঁডারে ছিল ওই রাশি রাশি সোনাদানা, মণি-মাণিক্য, গুপ্তধন?
এই ধরিত্রীর বুক ভরিয়ে দেওয়া সোনাদানা, মণি-মাণিক্য, গুপ্তধন এসেছিল ব্রহ্মাণ্ডের কোন মুলুক থেকে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যেই চলছিল চাপান-উতোর। কেউ বলছিলেন, তা নিয়ে এসেছিল বিশাল বিশাল গ্রহাণু (অ্যাস্টারয়েড)।
কোটি কোটি বছর আগে। তারাই আমাদের এই গ্রহটিকে সজোরে ধাক্কা মেরে তাদের শরীর থেকে ঝরিয়ে দিয়ে গিয়েছিল ওই সব রত্ন-মাণিক্য। আবার কেউ কেউ বলছিলেন, তা নিয়ে এসেছিল বড় বড় উল্কারা (মেটিওরাইট)।
অতীতে সেই একের পর এক উল্কাপাতের ঘটনাই নাকি আমাদের পক্ষে ‘শাপে বর’ হয়েছিল। ওই উল্কারাই ধরিত্রীর গা আর বুক ভরিয়ে দিয়েছিল সোনাদানা, নানা রত্ন আর মণি-মাণিক্যে।
এই প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে জানা গেল, কল্কে জুগিয়েছে উল্কারাই! এই পৃথিবীর গা ভরিয়ে দেওয়ার জন্য যত রাশি রাশি সোনাদানা, রত্ন, মণি-মাণিক্য, গুপ্তধন রয়েছে এখন আমাদের এই বাসযোগ্য গ্রহে, তার বেশির ভাগটাই নিয়ে এসেছিল বড় বড় উল্কারা।
ব্রহ্মাণ্ডের কোন সে সুদূর মুলুক থেকে। গবেষণাপত্রটি ছাপা হয়েছে খ্যাতনামা বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায়। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ আর্থ সায়েন্সেসের তিন অধ্যাপক ম্যাথিয়াস উইলবোল্ড, টিম এলিয়ট আর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন মুরবাথের লেখা ওই গবেষণাপত্রটির নাম- ‘দ্য টাংস্টেন আইসোটপিক কম্পোজিশন অফ দ্য আর্থস্’ ম্যান্ট্ল বিফোর দ্য টার্মিনাল বোম্বার্ডমেন্ট’।
ওই সব গুপ্তধন এসেছিল ঠিক কত দিন আগে?
এই প্রথম হাতে-কলমে পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেল, পৃথিবীর জন্মের (প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে) কুড়ি কোটি বছর পরেই ওই বড় বড় উল্কারা সজোরে ছুটে এসে ধাক্কা মেরেছিল পৃথিবীকে। ওই সজোর, সবল ধাক্কায় উল্কাগুলোর শরীর থেকে ঝরে পড়েছিল রাশি রাশি সোনাদানা, রত্ন, মণি-মাণিক্য।
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ আর্থ সায়েন্সেসের আইসোটোপ গ্রুপের দুই অধ্যাপক ও অক্সফোর্ডের অধ্যাপক মুরবাথ ওই গবেষণাটি চালিয়েছিলেন গ্রিনল্যান্ড থেকে হদিশ মেলা সুপ্রাচীন শিলা-পাথরের (রক্স) ওপর। যে ‘রক’গুলোর বয়স প্রায় ৪০০ কোটি বছর।
মানে, যখন এই সৌরমণ্ডলে পৃথিবীর মতো ছোট ছোট পাথুরে গুহগুলো জন্মাচ্ছে (ভারী গ্রহ বৃহস্পতি, শনির জন্মের অনেক পরে), সূর্যের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে জমাট বাঁধা ঘন, অগ্নিগর্ভ গ্যাসের মেঘ (যে গ্যাসের মেঘ থেকে সূর্য়েরও জন্ম হয়েছিল) থেকে, গ্রিনল্যান্ডে হদিশ মেলা ওই ‘রক’গুলো তখনই জন্মেছিল।
গবেষকরা ওই ‘রক’গুলোতে কতটা টাংস্টেন রয়েছে, তা পরীক্ষা করে দেখেছিলেন। টাংস্টেন অত্যন্ত বিরল আর বহু মূল্যবান মৌলিক পদার্থ। কতটা বিরল টাংস্টেন? এক গ্রাম ওজনের ‘রক’-এ এক গ্রামের দশ লক্ষ ভাগের মধ্যে মাত্র এক ভাগ থাকে টাংস্টেন। এই মৌল এতটাই বিরল।
ফলে, বহু মূল্যবানও। তাঁরা ওই টাংস্টেনের একটি বিশেষ আইসোটোপ নিয়ে পরীক্ষা করছিলেন। তাতে তাঁরা দেখেন, এই পৃথিবীতে পাওয়া আধুনিক পাথরগুলোতে (রক্স) যতটা টাংস্টেন পাওয়া যায়, তার দশ লক্ষ ভাগের মধ্যে ১৫ শতাংশ করে টাংস্টেনের পরিমাণ কম থেকে যাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড থেকে হদিশ মেলা ‘রক’গুলোতে।
No comments:
Post a Comment