‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটির আবাধ প্রদর্শনীতে বাধা সৃষ্টি করার
জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সিনেমাটিকে
‘অজ্ঞাত’ কারণে হল থেকে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন যেসব শিল্পী-কলাকুশলীরা, বৃহস্পতিবারের
এই রায়ে তাঁরা রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। জেনে নিন, কে
কী প্রতিক্রিয়া দিলেন।
অনীক দত্ত, পরিচালক - খুব ভাল খবর। কিন্তু এই টাকাটা
যেন সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা থেকে না যায়। হল মালিক ও
প্রযোজকরা ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকাটা পাবেন, খুশির খবর। বাক
স্বাধীনতার জয় হল।
ইন্দিরা উন্নিয়ন, ছবিটির প্রযোজক - আমরা ভীষণ
খুশি। পুরো
টিমের এতদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল মিলল। এর পরে কোনও সরকার শিল্প
ও শিল্পীর বাক স্বাধীনতা এবং শৈল্পিক মননে হস্তক্ষেপ করার আগে ভাববে।
কৌশিক সেন, অভিনেতা -দ্যাটস এক্সেলেন্ট!
এটা চমৎকার ইনসট্যান্স। একমাত্র আইন ব্যবস্থার
উপরই ভরসা রয়েছে আমাদের। গণতন্ত্রের শক্তিশালী
পিলারগুলোর মধ্যে আদালতের উপরই মানুষ নির্ভর করতে পারে। আমি পরিবার
নিয়ে ছবিটা দেখতে গিয়েছিলাম, সিনেমাহল হাউসফুল ছিল। এমন
নয় যে ছবিটা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শক ঝান্ডা হাতে বেরিয়ে পড়ল। এটাই
কেন এরা বোঝে না?
সিনেমা, সাহিত্যের প্রভাবটা অন্যরকম। আসলে
সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি ভোট ছাড়া আর কিছু বোঝে না। আটকে দেওয়ার
এই প্রচেষ্টাতেই বোঝা যায় তৃণমূল কতটা অগণতান্ত্রিক।
দেবলীনা দত্ত, অভিনেত্রী - অপরিসীম খুশি প্রকাশ করার ভাষা নেই। তাছাড়া, আমাদের
রাজ্যে অন্যায় হলে চুপ করে থাকতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি আমরা। সেখানে
‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ হলো, প্রতিকার হলো,
এমনকী শাস্তিও হলো। জরিমানা তো একপ্রকার
শাস্তিই বটে। রাজ্য
সরকার যদি অন্যায় করার জন্য শাস্তি পায়, তাহলে সাধারণ মানুষ ভুল করার
আগে দশবার ভাববে।
বাদশা মৈত্র, অভিনেতা - ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার কাছ থেকে এই খবরটি শোনেন
বাদশা। তিনি
বলেন,
“এটা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়। শুধু
এই ছবিটা বলে নয়,
সেন্সরের ছাড়পত্র পাওয়া যেকোনও ছবি মুক্তির পর এভাবেই যদি হল থেকে উধাও
হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ করার জন্য হলমালিকদের প্রশ্ন করা
সরকারের দায়িত্ব। এই রায় দৃষ্টান্ত তৈরি
করবে যে এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য, সরকার চুপ করে থাকতে
পারে না। আদালত
বোধ হয় স্পষ্ট করে দিয়েছে,
দায়িত্বটা কার ছিল, অদৃশ্য শক্তিটা কে।”

No comments:
Post a Comment