প্রত্যেকেই জীবনে সুখপাখিটাকে ধরতে চান। কেউ কেউ সহজেই ধরতে পারলেও বেশিরভাগই আছেন যারা কষ্ট করেও সুখের নাগাল পান না। ফলে সারা জীবন নানা অশান্তিতে কেটে যায় তাদের। অথচ একটু চেষ্টা করলেই জীবনে সুখী হওয়া যায়। নিজের জীবন এবং কাজে সুখী হওয়ার চেষ্টা করুন। এছাড়া সুখী হতে করতে পারেন বড় কোন কাজও। তবে নিজেকে সুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপায় নানা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো মনে শান্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আপনাকে সুখীও করবে।
কাজেই জেনে নিন সুখী হওয়ার বৈজ্ঞানিক কিছু উপায়ের কথা-
পরোপকারে অর্থ ব্যয় করুন
এই জগতে সাধারণত তারাই বেশি সুখী যারা অন্যদের দিতে পছন্দ করেন। সাইকোলজিক্যাল বুলেটিনে প্রকাশিত একটি গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, নিজের জন্য টাকা খরচ করার এক ধরনের আনন্দ রয়েছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। কিন্তু অন্য কারো জন্য অর্থ খরচ করার আনন্দ তার চাইতেও বেশি।
ভালো ঘটনা লিখে রাখুন
প্রতিদিন যেসব ভালো কাজ করবেন কিংবা কারো কার থেকে আপনি অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন এমন সব ঘটনার কথা লিখে রাখুন। কারণ এসব ঘটনাই আপনাকে সুখী রাখতে সাহায্য করবে। ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার প্রোফেসর মার্টিন সেলিগম্যান বলেছেন, যিনি দিনে অন্তত নিজের সঙ্গে ঘটা তিনটি ঘটনা রাতে লিখে রাখেন তিনি বৈজ্ঞানিকভাবেই অনেক বেশি সুখী।
নতুন কিছু করুন
একঘেয়েমি কাটানোর সব চাইতে ভালো উপায় হচ্ছে নতুন কিছু করা। কাজেই সবসময় নতুন কিছু করার চেষ্টা আপনাকে সুখী হতে সাহায্য করবে। কাজেই সুখী হতে জীবনে একবার নতুন কিছু করার চেষ্টা করেই দেখুন না।
আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন
কেবল আত্মবিশ্বাসের বলেই নিজের সব দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলা যায়। তখনই যে কোন মানুষই সুখী হতে পারেন। ইউনিভার্সিটি অফ সেক্সাসের গবেষকগণ প্রকাশ করেছেন, যিনি নিজের ভেতরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে পারবেন তিনি ততোই নিজের দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলে সুখী মানুষ হয়ে উঠতে পারবেন।
লক্ষ্য নির্দিষ্ট করুন
জীবনে সবসময় একটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করুন এবং সে অনুযায়ী কাজ করুন। নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলেই দেখবেন অনেক সুখী হয়ে উঠবেন। এ ব্যাপারে সাইকোলজিস্ট জনাথন ফ্রিডম্যান বলেছেন, যে মানুষের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য রয়েছে এবং যিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করতে পারেন তিনি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সবক্ষেত্রেই সুখী থাকতে পারেন।
নিরপেক্ষ থাকুন
সবসময় নিরপেক্ষ থাকার মনোভাব জীবনকে সহজ এবং সুন্দর করে। আর এটাই সুখী জীবনের অন্যতম পূর্বশর্ত।
প্রার্থনা করুন
সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়। ফলে সুখী হওয়া সহজ হয়। ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্নের এসোসিয়েট প্রোফেসর ব্রুস হেইডে তার গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, ২৫ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে তারাই বেশি সুখী যারা নিয়মিত চার্চে যান।
৬ ঘণ্টা ঘুমান
প্রতি রাতে ৬ ঘণ্টা করে ঘুমালে নিজেকে অনেক সতেজ লাগে। এতে কাজেও মনোযোগ ফিরে আসে। ব্রিটিশ কোম্পানি ওইও ভ্যালীর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে কোনো সমস্যা ছাড়া ৬ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের টানা ঘুম মানুষকে সুখী করে তোলে।
ভালো বন্ধু রাখুন
নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের অন্তত ১০ জন ভালো বন্ধু রয়েছে তারা মানুষ হিসেবে অনেক বেশি সুখী।
সুখে থাকার অভিনয় করুন
সুখে থাকার অভিনয় করলে তা আপনার মানসিক শান্তি ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তুলবে। ফলে একটা সময় এই অভিনয়টাই সত্যি হয়ে যাবে। তাই সুখী হতে সুখে থাকার অভিনয়ও করতে পারেন।

No comments:
Post a Comment