সাইকোপ্যাথি হল এক ধরনের মানসিক অসুস্থ্যতা যা কিনা অনেক মানুষের মাঝেই বিরাজমান। এটি একটি পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার যা বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সনাক্তকরলেই বোঝা যায়।
অগভীর আবেগ, কম ভয়, উদাসীন, ঠাণ্ডা মাথায় অন্যায় করা, নিজ দোষ শিকার না করা, নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করা, মানুষকে মিথ্যা দিয়ে প্রভাবিত করা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিকল্পনা করে খারাপ কাজ করা, মানুষের ক্ষতি করে অনুতপ্ত না হওয়া, মানুষের কষ্ট দেখে উপহাস করা, অসামাজিক আচরন এগুলোই মূলত একজন সাইকোর বৈশিষ্ট্য।
মানুষের মধ্যে এসব আচরন বিদ্যমান থাকলে বুঝবেন সেই মানুষটি একজন সাইকো। সাইকোপ্যাথ নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে।
তবে কারো মাঝে উপরের একটি আচরন বিরাজমান থাকলেই ধরে নেয়া যাবে না যে, উনি একজন সাইকো।কিছু আচরন আছে যা সাইকোপ্যাথি পয়েন্ট টেবিলের অনেক উঁচুতে থাকে।
এমন আচরনের মধ্যে মানুষের ক্ষতি করে অনুতপ্ত না হওয়া, মানুষের কষ্ট দেখে উপহাস করা, পরিকল্পনা করে খারাপ কাজ করা এগুলোই সাইকোপ্যাথির প্রারম্ভিক লক্ষণ!
একজন সাইকোপ্যাথের মাঝে বিরাজমান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সমুহ বিশ্লেষণ করে ডঃ রবার্ট ডি. হেরি সাইকোপ্যাথ চেকলিষ্ট-রিভাইস তৈরি করেন। আসুন জেনে নেই একজন সাইকপ্যাথ এর কিছু লক্ষন-
১. এরা স্বীয় সত্ত্বা ছাড়া আর কারো কথা চিন্তা করে না। সবসময় নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকে।
২. তারা খুব বেশি চালাক এবং সামাজিক সহানুভুতিকে তারা নিজ স্বার্থে ব্যাবহার করে।
৩. তারা নিজের সুখের কথা ছাড়া আর কারো কথা ভাবে না।
৪. এরা মিথ্যা বললে তা ধরার কোন উপায় নাই। অনড়গল মিথ্যা বলা এদের অভ্যাস।
৫. এদের অনেকেই কৈশোর বা যৌবনের প্রারম্ভিক সময় থেকে পাপে লিপ্ত থাকে।
৬. এদের মাঝে মানুষের জন্য দয়া-মায়া কম থাকে। অনেক ক্ষেত্রে একদমই থাকেনা।
৭. এরা কখনই নিজের দোষ স্বীকার করে না। তারা ভাবে যে একমাত্র তারাই ঠিক।
৮. মানুষের কষ্ট ও বিপদে এদের মাঝে সহানুভূতি দেখা যায় না।
৯. খারাপ পথে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে এরা উচ্চ বিলাসিতা বজায় রাখে।
১০. ভাল কাজের সুযোগ থাকলেও এরা খারাপ কাজ করতে আগ্রহী থাকে।
যদি আপনার পাশের মানুষটির সাথে মিলে যায় তাহলে আজই সাবধান হয়ে যান।

No comments:
Post a Comment