রিপন আলি বিজেপি করছে ! দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে নিজের সমস্যা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পাশের গ্রাম থেকে ছুটে এসেছিলেন বাম আমল থেকে লাঞ্ছিত হওয়া রিপন আলি । মঞ্চে উঠতেই নিরাপত্তারক্ষীদের ভেদ করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই যুবক। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের মারে মাঠেই কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।এদিন বুনিয়াদপুরের নারায়নপুর মাঠে বালুরঘাট কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হয়ে সভাস্থলে এঘটনা ঘটে।
জানা গেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি ব্লকের বেরইল গ্রামের বাসিন্দা রিপন আলি। বাম আমল থেকেই তার জমির একটি সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন তিনি। রিপন আলী জানিয়েছেন, তিনি কোন দিন বিজেপি করেননি। এলাকায় সক্রিয় ভাবে তৃণমূল দলটাই করেন। দিদি আসছে জেনে নিজের দীর্ঘদিনের জমি সমস্যার কাগজ নিয়ে এদিন সভাতে এসেছিলেন দিদিকে জানাতে। ভোটে তৃনমুলের হয়ে এলাকায় প্রচারও করেছেন তিনি। কিন্তু এখানে এসে তাকে এমন তকমা খেতে হবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি।
মমতার সভায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মাওবাদী আখ্যা পেয়েছেন রাজ্যে একাধিক যুবক। এবারে সমস্যার কথা জানাতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীকে বিজেপি কর্মী আখ্যা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায। নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে মার খেয়ে বেহুশ হয়ে পড়লেন ওই যুবক। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরের নারায়নপুর মাঠে ঘটল এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এদিন সভার শুরুতেই মঞ্চের সামনে খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যার মধ্যে আচমকা এক যুবক তার ব্যক্তিগত জমির সমস্যার কাগজ নিয়ে চিৎকার করতে করতে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে মমতার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। যাকে ঘিরে সভার শুরুতেই কিছুটা হৈ হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। আর তখনই এক প্রকার মেজাজ হারিয়ে মমতা বলেন কখনো কখনো বিজেপি এমন লোক পাঠিয়ে তাদের সভাতে গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করে। তৃণমূল সুপ্রিমোর এমন বক্তব্যের পর বেশ কিছু নিরাপত্তারক্ষী উত্তেজিত হয়ে ওই যুবককে পাকড়াও করে বেধড়ক মারধর শুরু করে। যার জেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই যুবক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাকে গ্রেফতার না করার জন্য পুলিশকে সভা মঞ্চ থেকে আবেদন করেন মমতা। তিনি বলেন কেউ ভুল করলে, আমরা ভুল করবোনা। ওকে জল খাওয়ান, বসতে দিন। এই বলে নিজের ভাষণ শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষে সমস্যার চিঠি মন্ত্রী রাজিব ব্যানার্জির হাতে তুলে দিলেও তৃণমূল কর্মীদের রোষ থেকে রক্ষা পাননি আক্রান্ত ওই যুবক। মারতে মারতে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় তাকে।

No comments:
Post a Comment