জীবন রক্ষাকারী ১৫টি তথ্য যা সকলেরই জানা উচিত - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 6 April 2019

জীবন রক্ষাকারী ১৫টি তথ্য যা সকলেরই জানা উচিত





জীবনে বেঁচে থাকতে গেলে আমাদের প্রতিনিয়ত অনেক রকম সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলতে হয়ে থাকে। এসবকে আমরা ইচ্ছে করলেই বাদ দিতে পারি না। আবার এমন সব মুহূর্ত চলে আসে যখন কী করতে হবে তা আমরা বুঝতে পারি না। আবার এর অনেকগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রনে থাকে না। তাই জীবনকে রক্ষা করবে এমন কিছু তথ্য যা আমাদের সকলেরই জানা উচিত-

একই সাথে দুই কাজ করা:

নিরাপত্তা উপদেষ্টা মারুলি কৃশান বলেছেন একই সাথে হাটা এবং ফোনে কথা বললে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে আপনি পুরোপুরি দুই কাজে সমান গুরুত্ব দিতে পারেন না। একইভাবে হাটবে হাটতে আপনি যদি অন্য কোন কাজ করতে থাকেন তবে অমনোযোগিতার কারনে আপনি হয়তো আপনার দিকে আসা একটা দ্রুতগামী গাড়িকে সামান্য কিছু ভেবে অনেক বড় সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই নিজের স্বার্থে একই সাথে দুই ধরনের কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

গাড়িতে খেলা বন্ধ করে গাড়ির আয়না সঠিকভাবে ব্যবহার করুন:

সকল গাড়িতে খেলার ব্যবস্থা থাকে না ।যেসব গাড়িতে থাকে অনেকেই গাড়ির আয়না অ্যাডজাস্ট করে সেগুলো দিয়ে খেলতে থাকে। কিন্তু এই আয়নাগলো অন্য কোন গাড়ি বা বস্তুকে নির্দেশ দেবার জন্য থাকে। তাই আয়না দিয়ে যদি কেউ খেলায় মেতে ওঠে তবে এতে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশী থাকে। 

নিজেকে গরম রাখুন:

শরীর ভিজা থাকলে তারাতারি ঠান্ডা লাগে একথা বলেন প্রকৌশলী লান লাভোয়ী। ঠান্ডা পরিবেশে আপনার শরীরের তাপমাত্রা যেন দ্রুত কমে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখা দরকার। এজন্য আপনার পড়নের কাপড় হয় উলের নতুবা সুতি পড়া উচিত। কারন এই কাপড়গুলো আপনার শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত শোষন করে আপনাকে রাখেবে শুষ্ক এবং অনেকক্ষন শ্যাতশেতে ভাব থেকে আপনাকে মুক্তি দেবে। নিজের শরীর গরম থাকলে অনেক রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়।

একেবারেই বাধ্য না হয়ে বাহিরের তুষার খাওয়া থেকে দূরে থাকুন:

লাভোয়ী আরো বলেছেন যে, এক স্টেট থেকে অন্য স্টেট এ যেতে আপনার শরীর অনেক শক্তি ব্যয় করে। এই কারনে তিনি বলেন, যদি কোথাও আপনার পানি খাবার একান্ত প্রয়োজন হয়ে থাকে এবং আপনি যদি তা না পান তবেই শুধুমাত্র পানির বিকল্প হিসেবে এটি পানি পান করতে পারেন। এই সামান্য পরিমান পানিই আপনার শরীরের পানির চাহিদা পুরন করবে।

ইমারজেন্সিতে প্লেনে লাইফ জ্যাকেট আগেই পড়া থেকে বিরত থাকুন:

অ্যালভিন ইয়েপ সতর্ক করে বলেছেন, লাইফ জ্যাকেট পরে দ্রুত না ফোলানোর জন্য। তিনি আরো বলেন যে, যদি আপনার প্লেন আমারজেন্সিতে পানির উপর অবতরন করে এর ফলে পানি দ্রুত কেবিনে ঢুকে পড়তে পারে। তাই আপনি যদি আগেই আপনার লাইফ জ্যাকেটটি পরে ফেলেন তবে এটি আপনার সুবিধামত চলাফেরার সমস্যা সৃষ্টি করবে। এজন্য কেবিনে পানি ঢুকবার পর সাতার কেটে বেড় হয়ে তারপর আপনার লাইফ জ্যাকেট পরে এরপর তা ফুলিয়ে নিতে হবে।

নিজের উপর হেইমলিচের রণকৌশল অনুসরন করুন:

কিছু মানুষ অনুধাবন করে যে, তাদের গলা দিয়ে খাবার পর্যন্ত নামাতে অন্য লোকের সাহায্য প্রয়োজন হয়। যা খুবই খারাপ। সবসময় অন্যদের উপর নির্ভর হতে থাকলে নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রন থাকে না। নোমান মিটরুকা বলেন যে কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে নিজের উপর হেইমলিচের রণকৌশল অনুসরন করতে হয়।

প্রথমত: হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বুকের খাচার নীচ দিয়ে নাভি বরাবর নিতে হবে। অন্য হাতের তালু দিয়ে ঐ মুষ্ঠিবদ্ধ হাত দিয়ে জোড়ে চাপা দিন। এভাবে করতে থাকুন।

দ্বিতীয়ত: আপনার মুষ্টিবদ্ধ হাত পাকস্থলীর উপরে নীচে জোড়ে জোড়ে আঘাত করুন। এভাবে অনেক বার করতে থাকুন।

নতুন জায়গাতে এলার্জি প্রতিষেধক রাখুন:

আপনি জানেন না যে কখন আপনি এলার্জি জাতীয় সমস্যার কবলে পরবেন। তাই এধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে সব সময়ই এলার্জি প্রতিরোধক ঔষধ সঙ্গে রাখতে হবে।

রান্নার তেলে আগুন লাগলে বার্নার বন্ধ করে পাত্রটি ঢেকে ফেলুন:

রুচিন আগারওয়াল বলেছেন যে, জলন্ত তেলের উপর পানি ঢালা কখনও ঠিক নয়। এতে অনুগলো পাত্রের নীচে গরমে ধাক্কা খেয়ে উপরে উঠে আসে এবং চারিদিকে ছড়িয়ে পরে এর ফলে আরো বেশী জোড়ে আ্গুন জ্বলে ওঠে। এর পরিবর্তে প্রথমে বার্নার বন্ধ করে জলন্ত বস্তুর উপর যদি কিছু দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায় তবে অক্সিজেনের অভাবে আগুন নিভে যাবে।

যদি ধারালো কিছু দিয়ে বিদ্ধ হোন এটা তারাতারি বেড় করবেন না:

ধারালো কোন কিছু যদি আপনার শরীরে ঢুকে যায় তবে তা তারাতারি করে বেড় করলে রক্ত বেশী বেড় হয় এ কারনে তা দ্রুত বেড় করা বোকামীর নামান্তর। থমাস মি এসব বিষয় ব্যাখ্যা করে বলেন। এর পরিবর্তে চিকিৎসা না পাওয়া পর্যন্ত আপনি আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে এমন কিছু করার চেষ্টা করুন যেন তা থেকে বেশী রক্ত না বেড় হয়। কারন বেশী রক্ত আপনার শরীরের জন্য খুবই খারাপ হবে।

বিমান উঠা বা নামার সময় মনোযোগী হওয়া:

সাংকেত সাহার মতে, বিমানের নিরাপত্তা +৩/-৮ নীতি মেনে চলে। অর্থাৎ বিমান ওঠার ৩ মিনিটের মধ্যে এবং নামার ৮ মিসিট আগেই সবচেয়ে বেশী দূর্ঘটনা ঘটে। এই নীতিই লোকজনদের ওঠা এবং নামার সময় সতর্ক থাকতে সহায়তা করে। কারন শতকরা ৮০ ভাগ দূর্ঘটনা এই সময়গুলোতে হয়ে থাকে। তাই সময় নষ্ট না করে এই সময়গুলোতে সচেতন থাকতে হবে।

সিগরেটের ধোঁয়া থেকে আগুন লাগে:

বাসা বাড়িতে যে ধোঁয়া লাগে তা সাধারনত বার্নার থেকে খুব কমই হয়। কারন এর থেকে আমরা সবাই কম বেশী সাবধান থাকি । কিন্তু সমস্যা হল সিগারেট নিয়ে আমরা খুব একটা সচেতন থাকি না এর ফলে এথেকে আগুন লাগলে আমরা বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হই।

যদি জনসন্মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হলে পাশের জনকেই বলতে হবে:

শার্মা একজন বিখ্যাত মনস্তত্ববিদ এবং এসব বিষয় নেয়ে গবেষনা করেন। তিনি বলেন, জনসন্মুখে কেউ যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় তবে লোকজন ঐ লোকটিকে সাহায্য করা বাদ দিয়ে অন্যকেউ করবে বলে ভেবে থাকে। তাই আপনি যদি আঘাত পান তবে কারও জন্য অপেক্ষা না করে আপনার পাশের লোকটিকেই সরাসরি সাহায্যের জন্য বলুন।

একটি উজ্জল লাইটই একটি শক্তিশালী অস্ত্র:

ভারী দন্ড বা অস্ত্র বহন না করে এর পরিবর্তে একটি উজ্জল লাইটই হবে ভারী অস্ত্র। যদি দেখেন যে কেউ আপনার দিকে আক্রমনাত্বকভাবে আসে তবে সেই লাইট আলোর ফোকাস তার চোখের উপর ফেলুন –এভাবে আপনি তার থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad