আগে একটা সংগঠন বা দল কেন্দ্রে সরকার চালাত, এখন একক ব্যক্তিই সরকার চালাচ্ছে। মালদার চাঁচলে নির্বাচনী জনসভায় এসে এমনটাই অভিযোগ করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। শনিবার চাঁচল থেকেই বাংলার হয়ে লোকসভার নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন রাহুল। এদিন রাহুলকে দেখতে কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা দেখা যায়। শুরু থেকেই তাঁর বক্তব্য শোনার দাবি করতে থাকে জনতা। মঞ্চে ছিলেন দীপা দাশমুন্সি, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সোমেন মিত্র, মালদা উত্তরের প্রার্থী ইশা খান চৌধুরি, আবু হাসেম খান চৌধুরি, গৌরব গগৈ।
কিন্তু অন্য কোনও নেতানেত্রীদের বলার সুযোগ দেয়নি জনতা। রাহুলের হেলিকপ্টার চাঁচলে নামতেই তাঁর ঘিরে সমর্থকদের কোলাহল শুরু হয়ে যায়। চাঁচলেও রাহুল নোটবন্দি, রাফালে চুক্তি, কর্মসংস্থান, জিএসটি নিয়ে মোদিকে তুলোধনা করে রাহুলের অভিযোগ, বছরে দু’কোটি কর্মসংস্থানের বদলে গত পাঁচ বছরে দেশে সব থেকে বেশি মানুষ বেকার হয়েছেন।রাহুল বললেন, ‘আমরা দেশকে এক রাখার চেষ্টা করি। সম্প্রীতির কথা বলি।
আর বিজেপি বিদ্বেষ বিষ ছড়ায়। যেখানেই গিয়েছেন মোদি মিথ্যা কথাই বলেছেন। এখন দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য প্রচুর টাকার দরকার পড়ে গরিব মানুষের। কথা দিচ্ছি, আমরা ক্ষমতায় এলে উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো নেটওয়ার্ক তৈরি করব নূন্যতম খরচে। গব্বর সিং ট্যাক্স বদলিয়ে একটা সাধারণ নূন্যতম কর ব্যবস্থা করব। মালদায় আম বিখ্যাত। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সরাসরি কৃষকরা আম তাঁদের বাগান থেকে কারখানা বা বিপণিতে যাতে পাঠাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করব।’ সভা শেষ করার আগে রাহুল ভোটে জয়ের জন্য আশাপ্রকাশ করে বলেন, মালদাবাসী সবসময় কংগ্রেসকে ভালোবাসা দিয়েছেন। এবারও যে তার অন্যথা হবে না তা তিনি নিশ্চিত।
এদিন সভার আগে ,মালদার চাঁচলে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর প্রচারসভার আগেই চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সভায় যোগ দিতে আসা জনতা রাহুলকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টায় ভিআইপি ব্যারিকেড ভেঙে এগনোর চেষ্টা করে। সামনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরস্পরকে চেয়ার ছুড়তে থাকে জনতা। ভিড় সামলাতে মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসেন কংগ্রেসনেত্রী দীপা দাসমুন্সি এবং মালদা উত্তরের প্রার্থী ইশা খান চৌধুরি। তাঁর হয়েই চাঁচলে প্রচারে এসেছেন রাহুল। পরে পুলিস এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

No comments:
Post a Comment