জানলে অবাক হবেন, আসবাবপত্রে নয়, গাছে ভরা এক নারীর ফ্ল্যাট! - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 28 March 2019

জানলে অবাক হবেন, আসবাবপত্রে নয়, গাছে ভরা এক নারীর ফ্ল্যাট!



প্রেসকার্ড নিউজ :  গ্রামের বাড়িতে শখের পশু পাখি পালন এবং গাছ লাগানোর স্বপ্ন পূরণের কাজটা যত সহজে করা যায় শহরে তা সম্ভব নয়। শহরে বেশির ভাগ মানুষের বাস হাজার বা তার চেয়ে বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটে । সেখানে পশু পালনের কথা কেউ কল্পনা করে না, অনেক সময় পাখি পালনের ঝামেলায় কেউ যেতে চায় না। তবে শখের বসে হয়তো টুকিটাকি গাছ লাগিয়ে কেউ কেউ দইয়ের স্বাধ ঘোলে মিটিয়ে থাকে। বারান্দার দুই একটা টবের গাছেই তাদের শখ শেষ।

কিন্তু নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা সামার রেনে ওকসের শখ পূরণের মাধ্যমটা জানলে অবাক হতে হয়। শুধু তাই নয়, বিস্ময়ে হয়তো নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে বসবেন এটা কি করে সম্ভব? ওকসের গাছ লাগানোর কাণ্ড কারখানা দেখে আপনার গাছ লাগানোর শখেও আসতে পারে পরিবর্তন।

পরিবেশ ও পতঙ্গ বিজ্ঞানের ওপর স্নাতক করা ওকসের রয়েছে গাছ লাগানোর শখ। গাছের পাগল বলা যায় তাকে। গাছ লাগানোর শখ পূরণ করতে গিয়ে নিজের ভাড়া করা ফ্লাটটাকে সত্যিকার জঙ্গলে রূপ দিয়েছেন।

 গত ১১ বছর ধরে বাস করা এই ফ্ল্যাটটিতে ধীরে ধীরে পূরণ করে চলেছেন তার গাছ লাগানোর স্বপ্নকে। একটা দুটো নয়, ১৫০ প্রজাতির কমপক্ষে ৫০০ গাছ রয়েছে তার ফ্লাটটিতে। কোথায় নেই গাছ? বারান্দা সে তো খুবই সাধারণ স্থান । শোবার ঘর, ড্রইং রুম, রান্নাঘরে, ডাইনিং রুম সব জায়গায় গাছ আর গাছ।

ওকসের বাথরুমেও গাছ দেখে অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই। গাছের জন্য জায়গা বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই তিনি করেছেন। তাইতো বাথরুমে ফ্লাশের ওপরও স্থান পেয়েছে কিছু গাছ। সেখানে বড় ধরণের একটা ট্রে’র ওপর কয়েকটি গাছ দারুণভাবে সাজিয়েছেন ওকস। শুধু যে গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন তা নয়, গাছের বিষয়টি কিভাবে ফ্যাশনেবল করা যায় যে চেষ্টাও করেছেন। বিভিন্ন ফুলের গাছ তো রয়েছেই, আছে ফলের গাছও। এমনমি আনারস গাছও স্থান পেয়েছে তার ফ্ল্যাটে।

পড়াশোনার কারণেই পরিবেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলার একটা দায়িত্ব আছে ওকসের। তাই তো শুধু যে নিজের ফ্ল্যাটটি সত্যিকার জঙ্গলে পরিণত করেছেন তা নয়, অন্যদের তিনি গাছ লাগিয়ে পরিবেশকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। যে সব বন্ধুরা প্রথমবার তার ফ্ল্যাটে আসে প্রথম দেখাই তারা অবাক হয়ে যায়। তাদের মুখ থেকে বিষ্ময়কর শব্দ বের হয়ে আসে।

একের পর গাছের সংখ্যা বাড়িয়েও শখ মিটছে না ওকসের। পরিবেশের পাশাপাশি পতঙ্গও ছিল তার পড়াশোনার বিষয়। তাইতো কিছু পতঙ্গ আনারও চিন্তাভাবনা করছেন তার ফ্লাটে। আর কিছু নয়, কিছু মৌমাছিকে স্থান দিতে চান ফ্ল্যাটটিতে। তবে সমস্যা যে একেবারে নেই তা নয়, গাছ নিজের ঘরে থাকলেও মৌমাছি যে সব সময় ঘরে থাকবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাইতো বাড়ির মালিকের অনুমতি পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে একটু দুঃশ্চিন্তা রয়েছে। তবে দুঃশ্চিন্তার পরিমাণটা একটু কমই, কেননা বাড়ির মালিক এক সময় তার রুমমেট ছিল। একই সঙ্গে ছয়টা বছর কাটিয়েছেন তারা।

১১ বছর আগে যখন প্রথম বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন তখন আশপাশের অনেক বিল্ডিং তখন তৈরি হয়নি। ফলে বাড়ির বাইরের দৃশ্যটা একটু অন্যরকম ছিল। এখন অবস্থা যে খুব খারাপ হয়েছে তা নয়, কষ্ট করে একটু ছাদে উঠলেই ওকসের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্ট্যাচু অব লিবার্টি, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংসহ তিনটি চমৎকার সেতু। সে সব দৃশ্য দেখে ভাড়া করা এই ফ্ল্যাটটি আরো প্রিয় হয়ে ওঠে ওকসের।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad