" এটাই রাজনীতি ছেলেকে সেভ গার্ড করা তো চলছিলো। এখন আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে লক্ষ্য করে যেতে হবে । "
এভাবেই মুকুল রায়ের দলে ফেরা নিয়ে মন্তব্য করলেন বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল রায়ের একদা প্রতিপক্ষ অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জী। একসময়ের সেই প্রতিপক্ষ মুকুল ও কৌশানি এখন একই দলের সদস্য। মুকুল রায়ের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জীকে প্রশ্ন করে টিভি নাইন বাংলা টিভি চ্যানেল। চ্যানেলটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সেটা তার মনে হয়েছিল একটা সময় যে মুকুল তৃণমূলে ফিরবেন। জল্পনা চলছিল। কৌশানির কটাক্ষ এটাই রাজনীতি। ছেলেকে সেফগার্ড করাতো চলছিল । এখন আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে লক্ষ্য করে যেতে হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন কৌশানী। কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূলের টিকিট প্রতিপক্ষ তৎকালীন বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে ভোটে লড়াই করা কৌশানি বলেন, " দিনরাত প্রচার করে জিততে পারেনি। "
মুকুল রায় জেতার পরে বেশ অবাক হয়েছিলেন তিনি। সেভাবে প্রচার না করে মানুষের কাছে না পৌঁছে ও মুকুল রায় জিতলেন। তবে হারের ধাক্কা সামলে ফের অভিনয়ে ফিরেছেন কৌশানী এবং হট লুকে হাজির হয়েছেন। যে ছবি দেখে প্রেমিক বনি মন্তব্য করেছেন আয়ে হায়ে হিরোইন ইজ ব্যাক। কৌশানী উত্তর দিয়েছেন হ্যাঁ ফিরে আসছি। এই মন্তব্য দেখে অনেকেই ধন্দে পড়েছেন। তবে কি ভোটে হেরে রাজনীতিকে বিদায় জানালেন কৌশানি। তবে কৌশানি রাজনীতিতে আছেন নাকি নেই সে উত্তর অবশ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্য দিকে মুকুল রায়ের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিরূপ মন্তব্য। অনেকে বলছেন তৃণমূলে ফের নতুন করে মুকুল লবি তৈরি হবে নাতো।
এতদিন যারা মুকুলে লবির ছিলেন এবং কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন অন্য লবির চাপে তারা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে দৌড়াদৌড়ি। আবার অনেকে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। দলবদলের যে খেলা চলছে তা রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে।
স্বল্প সময়ে এত ঘন দলবদল বিরাট সংখ্যায় বাংলার ইতিহাসে বিরল ঘটনা। অনেকে আবার বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই বিজেপির অন্দরের খবর জানতে পাঠানো হয়েছিল মুকুল রায়কে। নেট নাগরিকদের ব্যাখ্যা আরএসএস পরামর্শে চলা বিজেপি যেহেতু ন্যাশনাল পার্টি সেহেতু সংঘের কার্যকর্তা থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘরে পৌঁছানোর জন্য একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন মুকুল রায়।
তৃণমূলের একাংশ বলছে মুকুল রায় সাহায্য না করলে তৃণমূল এবার 200 গণ্ডি পার করতে পারত না। স্বাভাবিকভাবে আসল সত্যিটা মুকুল রায় হয়ত কোনদিনই বলবেন না। কিন্তু মুকুল রায়ের প্রতিপক্ষ কৌশানী থেকে নেট নাগরিকরা টিপ্পনী থেকে গবেষণা করতে পিছু হটেননি কেউই।

No comments:
Post a Comment