নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উভয়সঙ্কটে পড়েছেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। না পারছেন দলে থাকতে, না পারছেন দল ছাড়তে। কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এমনটাই। সেই সংকট আরও প্রকট হয় একটি ফোন বার্তায়। সূত্রের খবর, এদিন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ফোন আসে ঘাসফুল শিবির থেকে। সেই ফোনেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, দলে ফিরতে হলে বিনা শর্তেই আসতে হবে তাঁকে। এই মুহূর্তে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে গুরুত্ব দিতে চাইছে না, সে কথাও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
দলীয় সূত্রে খবর, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তৃণমূল। দলে ফেরার জন্য প্রাথমিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে তাঁকে। যদিও দলে ফিরতে হলে বিনা শর্তে ফিরতে হবে। সেক্ষেত্রে পদ বা যাবতীয় বিষয়ে মানা হবে না তাঁর কোনও শর্ত। এই সকল বিষয় ঠিক করবে দলের উচ্চ স্তরের কমিটি। নির্দিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আপত্তি না থাকলে তবেই দলে ফিরতে পারেন তিনি।
বিজেপির নির্বাচনী কমিটিতে স্থান পেতে পারেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। বুধবার এমনটাই জানা যাচ্ছে রাজ্য বিজেপি সূত্র মারফত। অন্যদিকে একইসাথে দলের নির্বাচনী কমিটিতে এককালীন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুকুল রায়ও স্থান পেতে চলেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শোভনকে বেঁধে রাখার জন্যই দলের নির্বাচনী কমিটিতে তাঁকে স্থান দিতে চলেছে বিজেপি।
সূত্রের খবর, তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন প্রায় পাকাপাকি ভাবে ঠিক করে ফেলেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু বাঁধ সেধেছেন প্রশান্ত কিশোর। আর ভোট কুশলীর আপত্তি স্বাভাবিকভাবেই ফেলতে পারছেন না দলনেত্রীও। জানা গিয়েছে, শোভনের প্রত্যাবর্তনে একইভাবে সায় নেই পিকের ঘনিষ্ঠ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। ফলে খুব বড়সড় পরিবর্তন না ঘটলে শোভনের তৃণমূলে ফেরা কার্যত অসম্ভবই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

No comments:
Post a Comment