নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যেমনটা আমরা সকলেই জানি, রাজ্য সরকারের সাথে রাজ্যপালের সম্পর্ক খুব একটা সুখকর নয়। কিছু না কিছু নিয়ে উভয় পক্ষের সংঘাত লেগেই রয়েছে। আর এবার বেওয়ারিশ লাশ প্রসঙ্গেও ফের চরমে উঠল রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত। বেওয়ারিশ লাশ বিতর্কে পুরমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়। বেওয়ারিশ লাশ প্রসঙ্গে কোনরকম রিপোর্ট দেওয়া হবে না রাজ্যপালকে- শুক্রবার কড়া ভাষায় একথা সাফ জানিয়ে দেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।
এদিন রাজ্যপালের ট্যুইটের জবাবে প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'রাজ্যপাল পাবলিসিটির জন্য এটা করছেন। আমি এই নিয়ে কথা বলবো না। উনি যদি রাজ্যপাল হিসেবে রিপোর্ট চাইতেন আমি দিতাম। যেহেতু একটা দলের হয়ে কাজ করতে এসেছেন, তাই আমি কোন রিপোর্ট দেব না, কথাও বলব না।' রাজ্যপালের পদটাই কলংকিত হচ্ছে বলে এদিন মন্তব্য করেন ফিরহাদ হাকিম। তার সঙ্গে এও জানিয়ে দেন যে, রাজ্যপালের আহ্বানে তিনি দেখা করতে যাচ্ছেন না রাজভবনে। এ বিষয়ে ফিরহাদ বলেন, 'শনিবার ১১ টায় আমি যাব না ওনার সঙ্গে দেখা করতে। তাহলে তো দিলীপ ঘোষ ডাকলেও তার অফিসে যেতে হবে।'
প্রসঙ্গত, বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা গেছে, গড়িয়ার আদি মহাশ্মশানে একজন কর্মী আঁকশি দিয়ে টেনে পচা-গলা মৃতদেহ গাড়িতে তুলছেন। সেই গাড়িটির গায়ে কলকাতা পুরসভা লেখা ছিল। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে বিতর্ক ছড়ায় রাজ্যজুড়ে। প্রশ্ন উঠতে থাকে কিভাবে মানুষের মরদেহকে এভাবে জীবজন্তুর মতো টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে পৌর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম এর কাছে রিপোর্ট রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়। একইসঙ্গে রিপোর্ট তলব করা হয় পুর কমিশনারের কাছেও। এরপরে ট্যুইট করে তা জানান রাজ্যপাল।
ট্যুইটে রাজ্যপাল লেখেন, 'ক্রুদ্ধ হওয়ার মত বিষয়। দায়িত্বজ্ঞানহীন উপায়ে যেভাবে মরদেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে, তাতে লোকের রাগ এবং গভীর দুশ্চিন্তার ভাগীদার আমি। এই অবস্থায় হতভম্ব। পুর-চেয়ারম্যান এবং পুর কমিশনারের কাছে আজ জরুরি রিপোর্ট চেয়েছি।' যদিও এই বিষয়ে কোন রিপোর্টই রাজ্যপালকে দেওয়া হবে না, তা এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।

No comments:
Post a Comment