মালদা জেলার লড়াকু ছেলে দীপঙ্কর - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 29 June 2020

মালদা জেলার লড়াকু ছেলে দীপঙ্কর




নিজস্ব প্রতিবেদন: বয়স মাত্র ধরুন ১২ থেকে ১৩ হবে। খেলা - ধুলা, হই হুল্লোড়  করে কাটানোর সময়। এই বয়সে বাবা-মা ছাড়া আমরা প্রায় অচলই ছিলাম। কিন্তু সে আমদের সকলের মতো নয়। জীবনটা তার জন্য খুব একটা সহজ নয়, বড় সংগ্রাম করেই দিন কাটছে তার। বলছি দীপঙ্করের কথা। পুরো নাম দীপঙ্কর সাহা। বাড়ী তার মালদা জেলার বৈষ্ণব নগর থানার শুক পাড়ায়। বাবা- মা আছেন কিন্ত বাবা কথা বলতে পারেন না, অসুস্থ। মা ও প্রায় অচল। সংসারে তারা ৪ জন। বাবা-মা আর তারা দুই ভাই। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে ওই ছোট্ট একখানা ঘর। আর পুরো সংসারের দায় ভার এই ছোট্ট বালকটির ঘাড়ে। তা না হলে দেখবে কে! বাবা-মা অসুস্থ, ভাইও বড় হয়নি। দুঃস্থ, অসহায় পরিবারটির একমাত্র অবলম্বন দীপঙ্কর।

তাইতো জীবন যুদ্ধে একাই লড়াই করে চলেছে সে। পরিবারের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে জীবন পাত করে চলেছে বছর ১২-র ছেলেটি। সম্বল বলতে ওই এক সাইকেল। তার উপর ভর করেই সকাল-সকাল বেরিয়ে যায় পেপসি, আইসক্রিম বিক্রি করতে। এ গ্রাম, সে গ্রাম ছুটে যৎসামান্য যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই সংসার বহন করে নিয়ে চলেছে সে। বিশ্রাম কি জিনিস সে জানে না। কর্মই তার জীবনের একমাত্র ধর্ম।

তবে এখানেই শেষ নয়। এত কিছুর পরেও সে তার পড়াশোনা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। সে জয়েনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সাত সকালে মা কে প্রণাম করে দীপঙ্কর বেরিয়ে পড়ে তার সঙ্গী সাইকেলটি নিয়ে আইসক্রিম বিক্রি করতে। ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে ছুটে যায় আইসক্রিম মিলে আইসক্রিম আনতে। সেই সকাল থেকে আইসক্রিম বিক্রি করে  সাড়ে নয়টা নাগাদ বাড়ী ফেরে, দশটায় স্কলে যায় । দীপঙ্কর স্কুল শেষে আবার বেরিয়ে পড়ে অবশিষ্ট আইসক্রিম গুলো বিক্রি করতে।। এতো কষ্টের পর ও বিদ্যাল়য়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে দীপঙ্কর।

তবে লকডাউনে বেশ সমস্যায় পড়েছে সে। এই দুঃসময়ে খাবার ছিল না ঘরে। দীপঙ্করের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার কিছু মানুষ এবং তার স্কুলের শিক্ষক যুবরাজ ত্রিবেদী; একই সাথে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'নতুন আলো'-রও একজন সদস্য। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অন্যান্য সদস্য জয়দেব মণ্ডল, সুবীর সাহা ও আব্দুল্লাহ বাবু। কিন্তু পড়াশোনায় বেশ ক্ষতি হয়েছে তার এই কয়েক মাস। ইলেক্ট্রিক নেই, ফোন তো দুরস্ত। অনলাইন ক্লাস হবে কী করে! অসহায় ছেলেটি শুধু ছুটে চলেছে পেটের টানে। জানে না সে, পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে। করোনা নামক এই মহামারী কষ্টকর হলেও তার আগের জীবনে তাকে ফিরে আসতে দেবে কি না, সে সত্যিই জানে না। সে শুধু চায় পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। তার পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটাতে।

আপনাদের কাছে আকান্ত অনুরোধ, দীপঙ্করের মত মেধা যেন হারিয়ে না যায়। ছোট্ট বয়সে এমন এক সংগ্রামী বালক যেন বাধ্য হয়ে নিজের পড়াশোনার অধিকার হারিয়ে না ফেলে। তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। সকলে মিলে তার পাশে দাঁড়ান। আমার, আপনার সাহায্যেই হয়তো সে অনেক বড় একজন মানুষ হয়ে উঠবে। জয়ী হবে জীবন যুদ্ধে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad