বিড়াল প্রেমীদের জন্যও দুঃসংবাদ বয়ে আনল করোনা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 6 April 2020

বিড়াল প্রেমীদের জন্যও দুঃসংবাদ বয়ে আনল করোনা



বিশ্বজুড়ে এখন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ভাইরাসটি বিশ্বের ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি এই ভাইরাস সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে ইউরোপের দেশ ইতালি ও স্পেনকে। যুক্তরাষ্ট্রও একই পথে হাঁটছে।

তবে শুধু মানুষ নয়, প্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস। বাড়ীর পোষা বিড়ালটিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এবং এক বিড়াল থেকে আরেক বিড়ালে এই ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। খবর সিএনএন’র।

গবেষণার এই তথ্য বিড়ালপ্রেমীদের জন্য সুখকর নয়, তবে এখনই এটা নিয়ে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওই গবেষণার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেজিতেও নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে, যদিও তা এই প্রাণীর কোনও ক্ষতি করে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে কুকুরে এই ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে না বলেই মনে হচ্ছে। পাঁচটি কুকুরের মলে ভাইরাস দেখা গেলেও সেগুলোর দেহে সংক্রমণ ঘটার মতো কোনও ভাইরাস পাওয়া যায়নি। এছাড়া শুকর, মুরগি ও হাঁসও এই ভাইরাসের জন্য ভালো জায়গা নয়।

এখনই বিড়ালপ্রেমীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। নভেল করোনাভাইরাসে পোষা প্রাণী খুব অসুস্থ বা মারা যায় এমন কোনও প্রমাণ এখনও নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিকেল সেন্টার চিলড্রেনস হসপিটাল অব পিটসবার্গের পেডিয়াট্রিক ইনফেকশাস ডিজিজেস বিভাগের প্রধান ডা. জন উইলিয়ামস সিএনএনকে বলেন, “মানুষ যেন তার পোষা প্রাণীটিকে জড়িয়ে ধরা ছেড়ে না দেয়। এই গবেষকরা বিড়ালে নাসারন্ধ্র দিয়ে ‘হাই কনসেনট্রেশনের’ ভাইরাস প্রবেশ করিয়েছিল, যা ছিল একেবারেই কৃত্রিম।”

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিড়ালের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে কি না তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষায় আট মাসের পাঁচটি পোষা বিড়ালের নারারন্ধ্রে ভাইরাস প্রয়োগ করা্ হয়।

এর ঠিক ছয় দিন পর দুটি বিড়াল মারা যায়। তাদের শ্বাসতন্ত্রে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল।

ভাইরাস প্রয়োগ করা বাকি তিনটি বিড়ালকে একটি খাঁচায় পুরে রাখা হয়। এর পাশে আরেকটি খাঁচায় রাখা হয় তিনটি সুস্থ বিড়ালকে।

কিছু দিন পর পরীক্ষা করে ওই তিনটি সুস্থ বিড়ালের একটিকে করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া যায়। অন্য দুটি বিড়ালের শরীরে কোনও ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েনি। লালার মধ্য দিয়ে ভাইরাস এক বিড়াল থেকে আরেক বিড়ালে সংক্রমিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

কোনও বিড়ালের মধ্যেই অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি সেগুলোর একটি থেকে আরেকটিতে ভাইরাস সংক্রমিত হলেও বিড়াল মানবদেহে সংক্রমণ ঘটাতে পারে তা বোঝায় না।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চে বেলজিয়ামে এক ব্যক্তি ইতালি ভ্রমণ শেষে ফিরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর তার বিড়ালও অসুস্থ হয়।

বিড়ালটির শ্বাসকষ্ট এবং বমি ও মলে উচ্চমাত্রার ভাইরাস পাওয়া গেলেও সেটি কোভিড-১৯ না অন্য কোনও রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেননি গবেষকরা।

প্রায় দুই দশক আগে সার্সের সময়ও দেখা গিয়েছিল বিড়াল এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এবং একটি থেকে আরেকটি সংক্রমিত হতে পারে। কিন্তু ২০০২-২০০৪ সালের ওই মহামারীর সময় পোষা বিড়ালের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটেনি বা বিড়াল থেকে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমণের কোনও ঘটনা জানা যায়নি।

আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, “দুটো কুকুর (হংকং) এবং একটি বিড়ালের (বেলজিয়াম) সার্স-সিওভি-২ সংক্রমণ হয়েছে বলে খবর হলেও সংক্রামক ব্যধি বিশেষজ্ঞ এবং একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মানুষ ও পশুর স্বাস্থ্য সংস্থা একমত যে, গৃহপালিত প্রাণী মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণীর মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঘটাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার মতো কোনও প্রমাণ নেই।”

তাদের পরামর্শ, এই ভাইরাস সম্পর্কে আরও তথ্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কারও কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা গেলে তিনি যেন এই সময়ে পোষা প্রাণীর কাছে যাওয়া কমিয়ে দেন।

“যদি আপনার পোষা প্রাণীর দেখভাল করা ছাড়া উপায় না থাকে তাহলে মাস্ক পরে নেবেন। নিজের খাওয়া কিছু তাদের দেবেন না, চুমু বা আলিঙ্গন করবেন এবং সেগুলোর সংস্পর্শে যাওয়ার আগে বা পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad