উকুন মারার ওষুধে পরাস্ত হবে করোনা; দাবি অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 4 April 2020

উকুন মারার ওষুধে পরাস্ত হবে করোনা; দাবি অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের




মানুষের মাথার উকুন মারার ওষুধেই ঠেকানো যাবে করোনাভাইরাস—এমনটাই দাবি করছেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একদল গবেষক। তাঁরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাধারণভাবে ব্যবহৃত একটি ওষুধ পাওয়া গেছে। এটি একধরনের অ্যান্টি–প্যারাসিটিক ওষুধ। তাঁরা ওই ওষুধটি ব্যবহার করে গবেষণাগারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাসটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।

মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে যৌথ একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত মাথার উকুন মারার ওষুধ ‘আইভারমেক্টিন’–এর উচ্চমাত্রার ব্যবহার মানুষের কোষে বাড়তে থাকা করোনাভাইরাসের বৃদ্ধি থামাতে পারে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ‘আইভারমেক্টিন’ করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি রোধ করে দেয়। তবে এটি মানুষের মধ্যে পুরোমাত্রায় কার্যকর কি না এবং কী পরিমাণে প্রয়োগ নিরাপদ, তা এখনও গবেষকেরা নির্ণয় করতে পারেননি। তাঁরা বলছেন, পরবর্তী পদক্ষেপটি হল সঠিক প্রয়োগ ও পরিমাণ নির্ধারণ করা এবং সেটি মানুষের জন্য নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করা।

গবেষণাটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোনাশ বায়োমেডিসিন ডিসকভারি ইনস্টিটিউট ও পিটার দোর্টি ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশন অ্যান্ড ইমিউনিটি যৌথভাবে করেছে।

গবেষণাটির নেতৃত্বে রয়েছেন মোনাশ বায়োমেডিসিন ডিসকভারি ইনস্টিটিউটের সিনিয়ার গবেষক কাইলি ওয়াগস্টাফ। তিনি বলেন, বর্তমান ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কারণ, ওই ওষুধটি এর আগে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং যুক্তিযুক্তভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকায়ও রয়েছে। সাধারণ ভাষায় এই ওষুধটি কয়েক বছর ধরে সারা বিশ্বজুড়ে মাথার উকুন এবং স্ক্যাবিস ধরনের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কাইলি ওয়াগস্টাফ বলছেন, যেহেতু এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওষুধ, যদি প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পর্যাপ্ত কার্যকারিতা পাওয় যায়, তবে এটিকে সরাসরি মানুষের মধ্যে নিয়ে যাওয়া যাবে। এখন কেবল কার্যকারিতা খোঁজা হচ্ছে।

কাইলি ওয়াগস্টাফ আরও বলেন, যদি আইভারমেক্টিন নামের ওষুধটি কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এটি দ্রুত ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, এটি অবশ্যই বিবেচনা করার মতো। সতর্কভাবে এগোতে হবে। এখন প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য তহবিল প্রয়োজন।

এ ছাড়া গবেষণাগারে আইভারমেক্টিন নামের ওষুধটি এইচআইভি, ডেঙ্গু ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে এই গবেষণায় জড়িত গবেষকদের কাজের প্রশংসা করার সময় অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনি মিকাকোস এই ওষুধটির অপব্যবহার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিশুদের চুলের উকুনের চিকিৎসা ছাড়া এই ওষুধ এখনই কেউ কিনবেন না। কারণ, আমরা দেখেছি, বিদেশে কিছু লোক কিছু ওষুধের কথা শুনেই সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত উপায়ে ব্যবহার করে মারা গেছে।’

অস্ট্রেলিয়ার করোনাভাইরাসের সর্বশেষ অবস্থা
অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আজ শনিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪৮ জন। এর মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বরাবরের মতো এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে। এই রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯৩। এ ছাড়া ভিক্টোরিয়াতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১১৫, কুইন্সল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০০, সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় ৪০৭, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় ৪৩৬, ক্যানবেরায় ৯৩, তাসমানিয়ায় ৭৯ ও নর্দান টেরিটরিতে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। পুরো অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের শনাক্তকরণ পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad