সুদেষ্ণা গোস্বামী: যুগের সাথে তাল মিলাতে মিলাতে আমরা এমন জায়গায় চলে এসেছি যে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
আমরা প্রতি পদে পদে অভাব বোধ করি মা, ঠাকুমা, দাদু ,দিদিমা ,কাকা, কাকিমা ভাই ,বোন,নাতি,পুতি একসাথে থাকার আনন্দটাকে। কত স্বার্থপর হয়ে গেলে আমরা সবাই নিজের হাড়ি গুলো আলাদা আলাদা করে নিতে পারি তাইনা?
কিন্তু এই হাড়ি আলাদা করতে গিয়ে এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি তে নিজেদের মধ্যে আলাদা হবার একটা প্রবণতা চলে আসছে। আগেকার দিনে এত বিবাহবিচ্ছেদ হত না।শুধু বিবাহ বিচ্ছেদের কথা কেন আসছে এই দেখুন আপনার ছোট্ট ছানাটিকে যখন অফিস যাবেন কোথায় রেখে যাবেন সেটা ভাবতে গেলে কাজের লোকের দ্বারস্থ হতে হয়।
কাজের লোকের কাছে রেখে ওকি আপনি আদেও শান্তিতে অফিস করতে পারেন?আবার যদি বৃদ্ধ বয়সের দিকে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন সমস্ত বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা একদম একা হয়ে গেছেন চার দেওয়ালের মধ্যে। বৃদ্ধাশ্রম ছাড়া তাদের আর গতি নেই। এই যদি আগের মত সবাই মিলে একসাথে থাকা যেত তাহলে আর দূরে থাকা সন্তানদের এতো চিন্তা থাকতো না বৃদ্ধ বাবা-মা'র জন্য। তারাও সঙ্গী পেত বাকি জীবন বাঁচার।
উৎসব-পার্বণ এলে আমাদের মনে ভিড় করে আঙিনায় ভরে ওঠা কলরবের স্মৃতি। পুরনো বাড়িতে ঢুকলে মন কেঁদে ওঠে মলিন হয়ে যাওয়া ইটের পাঁজরগুলোর দিকে তাকালে।
সমীক্ষা কি বলছে জানেন? আমরা নাকি ফিরে পাব আবার একান্নবর্তী পরিবার ,আবার নাকি এক হেঁশেলে রান্না হবে সমস্ত পরিবারের একসাথে।
হ্যাঁ একটু নতুনত্ব তো থাকবেই যেহেতু যুগ বদলেছে। এখনকার মহিলারা আর ঘরে বসে সেলাই করেন না।তারা রীতিমতো কর্মরতা পুরুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে কাজে বেরোন। সুতরাং দেখতে পাবেন এক হাড়িতে রান্না হয়ত হবে একান্নবর্তী পরিবারে মুখরিত হবে আপনার আঙিনা কিন্তু তাতে আধুনিকতার ছাপ থাকবে পুরোদমে। বেশ তা হোক তবু বলবো ,আজও বাঙালিয়ানার গন্ধ ওই একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে ।
পি/ব
No comments:
Post a Comment