দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ২৬ অক্টোবরঃ “ধৃতরাষ্ট্র আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্থ রামপুরহাট পুরসভাকে অন্ধের মতো সমর্থন করে যাচ্ছেন তিনি”। দলের জেলা কমিটির সভায় এভবাবেই কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রামপুরহাট পুরসভার বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করলেন অনুব্রত মণ্ডল।
সামনের বছর রাজ্যের বেশ কয়েকটি সঙ্গে রামপুরহাট পুরসভার নির্বাচন। সেই কারনে আগেভাগে দলীয় সভা ডেকে ফাঁকফোকর মেরামতে কোমর বেঁধে নেমেছে তৃণমূল। সেই মতো বৃহস্পতিবার দলের জেলা কমিটি সভা ডাকা হয় বোলপুরে। সেখানে পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদেরও ডাকা হয়। সেই সভাতেই ক্ষুব্ধ দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন “সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্থ পুরসভা রামপুরহাট। আশিসবাবু সব জেনেও ধৃতরাষ্ট্রের মতো অন্ধ হয়ে রয়েছেন। তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না”।
প্রসঙ্গত, রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংখ্যাধিক্য কাউন্সিলর জেলা সভাপতির কাছে অভিযোগ জানান। তারই মাঝে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্বাস হোসেনের সঙ্গে চেয়ারম্যানের হাতাহাতি হয়। এনিয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয় অনুব্রত মণ্ডলকে। এরপর অনুব্রত মণ্ডল পাঁচজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেন। সেই কমিটি ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীনাক্ষী ভকতের স্বামী, দলের শহর কার্যকারী সভাপতি সৌমেন ভকত। কিন্তু তিনিও একটি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পরেন। সিপিএম তাদের দুর্নীতি নিয়ে একটি কথোপকথনের অডিও প্রকাশ করে আন্দোলনে নামে।
জেলা শাসক থেকে রামপুরহাট থানায় লিখির অভিযোগ দায়ের করা হয় সিপিএমের পক্ষ থেকে। অভিযোগের তদন্তের জন্য পাঁচ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টে কি উঠে এসেছে জানে না কেউ। ফলে পুরসভা পরিচালনায় ফের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এই দ্বন্দ্বে রামপুরহাট পুরসভায় সাতমাস ধরে উন্নয়ন খাতে কোন অর্থ আসেনি। ফলে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হোল্ডিং ট্যাক্স।
এনিয়ে ক্ষুব্ধ রামপুরহাট শহরের মানুষ। ফলে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফল খারাপ হয়েছে শহরে। এতেই ক্ষুব্ধ দলের জেলা সভাপতি। সেই সঙ্গে সভা থেকে রামপুরহাট পুরসভা নির্বাচনে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া সৈয়দ সিরাজ জিম্মিকে বিশেষ দেওয়া হয়েছে। দলের জেলা সহ সভাপতি অভিজিৎ সিংহ ওরফে রানা বলেন, “রামপুরহাটকে বিশেষ ভাবে দেখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ টি পুরসভা সতর্ক করা হয়েছে।
মানুষকে পাশে নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”। রামপুরহাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুকান্ত সরকার বলেন, “পুরসভা নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”। কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কৃষি দফতরে কাজ থাকায় বোলপুরের সভায় যেতে পারেনি। তবে দল যে নির্দেশ দেবে সেই নির্দেশ মেনে মেনে কাজ করব। আর সভায় কি বলেছে না বলেছে সেটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়”।
পি/ব
No comments:
Post a Comment