দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ২৫ অক্টোবরঃ পূর্বাঞ্চল পরিবেশ আদালত এব্যাপারে পৌষ মেলা নিয়ে পুরানো রায়কে বহাল রাখায় আগামী পৌষ মেলা স্বস্তিতেই। গত বুধবার এই মামলার শুনানীতে বলা হয়েছে যেহেতু পৌষ মেলা দোরগোড়ায়, ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর মূল আবেদনে আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল সেটাই বহাল থাকছে।
দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ২৬ অক্টোবরঃ এব্যাপারে, এই মেলার অন্যতম পর্যবেক্ষক পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত বলেন, আমরা চাই গোটা দেশে একটা দৃষ্টান্ত মূলক পরিবেশ বান্ধব মেলা হোক পৌষ মেলা। এদিন তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য দেশের প্রধান মন্ত্রী এবং যিনি সারা বিশ্বে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের জন্য দৃষ্টান্ত স্বরূপ, সেখানে স্বচ্ছ পরিবেশ বান্ধব মেলা হোক। অনলাইনে যেমন স্টলের জন্য আবেদন নেওয়া হবে, তেমনি স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানমনস্কতার ছাপ থাকুক।
সুভাষবাবু জানান, ২০১৮ সালে বসন্ত উৎসবে প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার ও মাইক বাজানো ইত্যাদিপরিবেশ নিয়েই আমি পরিবেশ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষন করি। তার প্রেক্ষিতেই বসন্ত উৎসব ও পৌষ মেলা নিয়ে দুটি অনভিপ্রেত ঘোষণা করা হয়। যাহোক শেষমেশ পৌষ মেলা হবে এই ঘোষণা হয়েছে। তাকে স্বাগত জানাই। ২০১৫ সালের পৌষ মেলাকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে গ্রীন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলাম। দীর্ঘ টালাবাহানার পর যাইহোক মেলার বিপক্ষে হলফনামা জমা দেওয়া হয় আদালতে।
এগুলো কিন্তু আমি বলি নি বা জমা দিই নি। তার প্রেক্ষিতে গ্রীন ট্রাইব্যুন্যাল তিন দিনের মামলার নির্দেশ দেয়। ২০১৬ সালের মেলায় আদালতের নির্দেশ মেনে মেলা হয় নি। টয়লেটের ব্যবস্থা ছিল না, খোলা উনুন, কয়লার ব্যবহার, মুক্ত শৌচ ও প্রক্ষালণের ব্যবস্থা ছিল না। ড্রেনের ব্যবস্থা ছিল না। ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই বিশ্বভারতী পরিবেশে ৬ দিনের মেলার জন্য আবেদন করে এবং সপ্তম দিনে মেলা তুলে দেওয়ার কথা বলে। সেই বছর ১ নভেম্বর বিধি নিষেধ আরোপ করল।
১৮৮৮ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দলীল বা ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী কাদের স্টল দেওয়া হবে। এখন এটা হট্ট মেলা। আগে তো প্রান্তিক চাষি শিল্পীদের মেলা ছিল। এখানে কোন আমিষ খাবার রান্না হবে না। বিশ্বভারতীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেটা দেখার জন্য তিন জন পর্যবেক্ষক সুভাষ দত্ত, জয়ন্ত মিত্র এবং কল্যাণ রুদ্রকে আদালত নিয়োগ করে। ২০১৭ সালে বিধি নিষেধ মানা সম্ভবপর হয় নি, কারণ হাতে সময় কম ছিল। আমার দুটি বিষয় নিয়ে আপত্তি ছিল। এক পৌষ মেলা দূষণ। দুই, বিশ্বভারতীর সলিড ও লিক্যুইড ওয়েস্ট নিয়ে সেটাকে নষ্ট করার কোন ব্যবস্থা নেই।
পি/ব
No comments:
Post a Comment