দেবশ্রী মজুমদারঃ বীরভূম, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্ম দিবস উদযাপন হল গোটা জেলা জুড়ে।রামপুরহাটের ১৬ নং ওয়ার্ডে স্থাপিত বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচন করা হয়। বিদ্যাসগরের মূর্তি উন্মোচন করেন মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুকান্ত সরকার তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের কাছে এই মূর্তি স্থাপনের আবেদন জানান।
সেই মোতাবেক চার লক্ষ টাকা ব্যায়ে এই মূর্তি স্থাপন করা হয়। উল্লেখ্য, এযাবৎ রামপুরহাট এলাকায় কোথাও বিদ্যাসাগরের মূর্তি স্থাপন হয় নি। এদিন আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্ণ পরিচয় জানি। এর আগেও বর্ণ মালা ছিল। কিন্তু বিদ্যাসাগর প্রথম যিনি বৈজ্ঞানিক ভাবে এই বর্ণমালা তৈরী করেছিলেন ১৮৫৫ সালে। আমরা সবাই জানি, ১৬ টি স্বরবর্ণ ও ৩৪টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। ৫০ টি অক্ষরে বর্ণের পরিচয়। স্বরবর্ণের মধ্যে দীর্ঘ ঋ ও দীর্ঘ লি ছিল। বিদ্যাসাগর দেখলেন অপ্রয়োজনীয়। বাদ দিলেন।
ব্যঞ্জন বর্ণে ডএ শূন্য র, ঢ এ শূন্য র । অন্তস্থ কে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিলেন। চন্দ্রবিন্দু আলাদা অক্ষর ছিল। বিদ্যাসগর ব্যঞ্জন বর্ণের মধ্যে সেই চন্দ্রবিন্দুকে আনলেন। ক্ষ কে ব্যঞ্জন বর্ণের মধ্যে না রেখে যুক্ত ব্যঞ্জন বর্ণের মধ্যে রাখলেন। বিদ্যাসাগরের মানসিকতা বুঝতেন। পালকি চড়ে স্কুল পরিদর্শনে যেতে যেতে তিনি বর্ণ পরিচয় লিখলেন। ঐক্য বাক্য মাণিক্য দ্বিতীয় ভাগে লিখলেন। তিনি শিক্ষককে বললেন বাচ্চাদের এর অর্থ বোঝাতে যাবেন না। বর্ণের পরিচয় করাবেন। শুধু বিধবা বিবাহ প্রথা নয়, বহু বিবাহ রদ করেন।
কারণ একজন কুলীন ব্রাহ্মণ ৩৪০জন মহিলাকে বিয়ে করতেন। এছাড়াও, হিন্দু পেট্রিয়টের মত বন্ধ হয়ে যাওয়া বহু পত্রিকার ব্যয়ভার বহন করেন। রামপুরহাটে উচ্চবালিকা বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্কুল প্রভাতফেরীতে বের হয় পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের জন্ম দিন উপলক্ষে। বীরভূম জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, সিউড়ি বীরভূম প্রেস ক্লাবে বিদ্যাসগরের দ্বিশত বর্ষ জন্ম জয়ন্তী পালন হয়। প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যাপক তপন গোস্বামী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি প্রলয় নায়েক, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার সুবিমল পাল, অতিরিক্ত জেলা শাসক দ্বীপ্তেন্দু বেরা প্রমূখ।
অন্যদিকে, বিশ্বভারতের লাইব্রেরী নেটওয়ার্ক.। সকালবেলায় একটি পদযাত্রা মধ্য দিয়ে শুরু হয়, উপাসনা গৃহ থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এসে শেষ। পদযাত্রা শেষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সভাকক্ষে। এদিনের আলোচনা সভার বিষয় ছিলো "রবীন্দ্র দৃষ্টিতে বিদ্যাসাগর"।
এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বক্তৃতা করেন বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রভবন অধ্যাপক অমল কুমার পাল, বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ও নির্মাল্য বন্দ্যোপাধ্যায় ভারপ্রপ্ত গ্রন্থাগারিক। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্ম দিবস উপলক্ষে পুস্তক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
পি/ব
No comments:
Post a Comment