৩৭০ বদলা নিতে মোদী শাহ দোভালকে খুনের ছক , জইশকে লেলিয়ে দিচ্ছে পাক সেনা গোয়েন্দা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 26 September 2019

৩৭০ বদলা নিতে মোদী শাহ দোভালকে খুনের ছক , জইশকে লেলিয়ে দিচ্ছে পাক সেনা গোয়েন্দা




কাশ্মীর থেকে ৩৭০ প্রত্যাহারের বদলা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। প্রতিশোধ নিতে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল কে হত্যার ছক কষছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সম্প্রতি গোয়েন্দা রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, উরির কায়দায় ফের বড়সড় আত্মঘাতী হামলার ছক কষছে জইশ। ১০-১২ জন জইশ জঙ্গি ইতিমধ্যেই প্ল্যান সফল করতে ভারতে ঢুকে পড়েছে। তাদের মূল টার্গেট সীমান্ত সংলগ্ন জম্মু কাশ্মীর ও পঞ্জাবের বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলি। জোড়া সতর্কবার্তা পেয়ে ঘুম উড়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকেই সীমান্তের ওপারে জঙ্গি লঞ্চপ্যাড গুলি যে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে, সেখবর গোয়েন্দাদের কাছে আগেই ছিল। তার ওপর নয়া সংযোজন মোদি জানা গিয়েছে, মোদি-দোভাল অমিতকে মারার জন্য রীতিমতাে একটি টিম গড়ে ফেলেছে জইশ। তাদের ইন্টেলিজেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে সাহায্য করছে আইএসআই। এক গোয়েন্দা আধিকারিক জানিয়েছেন, জইশের অপারেটিভ শমসের ওয়ানি ও তার হ্যান্ডলারকে এই সংক্রান্ত একটি গোপন বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা বিষয়টি জানতে পারেন।


একই বার্তায় সেপ্টেম্বরে বড় বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনার কথা ছিল। তারপর দেশের ৩০ টি শহরের চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জম্মু, অমৃতসর, পাঠানকোট, জয়পুর, গান্ধীনগর, কানপুর এবং লখনউ। আগস্টের পর থেকেই জইশ ফিদায়ে জঙ্গিদের এদেশে ঢোকাতে শুরু করেছে। তাতে যোগ্য সঙ্গত করছে পাকসেনা। এই মুহুর্তে ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য তক্কে তক্কে রয়েছে নয় নয় করে অন্তত ৫০০ জঙ্গি। উৎসবের মরসুমে অনুপ্রবেশ করে আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা।বিশেষভাবে টার্গেট করা হতে পারে বায়ুসেনার বিমানঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা বেসক্যাম্পগুলিকে। গোয়েন্দা তথ্য এই সুনির্দিষ্ট ইনপুট পাওয়ার পরই কোন ঝুঁকি না নিয়ে নিয়ে তড়িঘড়ি জম্মু কাশ্মীর ও পাঞ্জাব বায়ু সেনা চারটি বিমান ঘাঁটিতে সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্র।


সম্ভাব্য হামলার খবর পেয়ে আগেভাগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জম্মু-কাশ্মীর শ্রীনগর, অবন্তী পুরা, জম্মু, পাঞ্জাবের পাঠানকোট ও উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ কাছে হিন্ডন বিমান ঘাঁটিতে হামলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই সমস্ত বিমানঘাঁটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অ্যালার্ট থাকতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের। এদিকে, প্রাণনাশের সম্ভাবনার ইনপুট পেয়ে মােদি-দোভালের নিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা বেড়েছে প্রশাসনের। দোভালের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যালােচনা করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তাছাড়া, আর অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে শুরু করে বালাকোট বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রাইক- এসবই দোভাল ব্লেনচাইল্ড। ফলে, জইশের হিটলিস্টের একেবারে প্রথম দিকে রয়েছেন প্রাক্তন এই র কর্তা। সম্প্রতি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং কেন্দ্রে চিঠি লিখে জানান, পাঞ্জাবের পাক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ড্রোন থেকে অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক, গ্রেনেড সরবরাহ করা হচ্ছে জঙ্গিদের গােপন ঘাঁটিতে। অমরিন্দরের চিঠি পেয়েই ওই এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাড়ানাে হয় গােয়েন্দা কার্যকলাপও । তাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সমস্ত তথ্য। তবে, ভারতও যে পালটা জবাব দিতে তৈরি এদিন তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, প্রতিপক্ষকে উপযুক্ত জবাব দিতে তৈরি আমাদের জওয়ানরা। চ্যালেঞ্জ যেমনই আসুক না কেন, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হলে ভারত পালটা আক্রমণে কসুর করবে না।



 গোয়েন্দা তথ্য জানা গিয়েছে, সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে ধাঁটি গেড়ে থাকা ফিদায়ে বাহিনীকে কাজে লাগাতে চাইছে জইশ। হামলা চালানোর জন্য ওয়্যারলেস ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাদের নগদ টাকা পয়সা সহ যাবতীয় রসদ জোগাড়ের চেষ্টা করছে। মনে করা হচ্ছে, সম্ভবত পাঞ্জাবের বাঙ্গু-পাঠানকোট এর কাছাকাছি কোন জায়গায় গােপন আস্তানা করে রয়েছে তারা। এই আত্মঘাতী বাহিনীরই আরেকটি দল জম্মু কাশ্মীরে হামলার ছক কষছে বলে খবর। দিনকয়েক আগে খবর মেলে, বালাকোটে বায়ুসেনার গুড়িয়ে দেওয়া জইশ ক্যাম্প ফর নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেখানেই মাসুদ আজহারের ভাই আসগরের নেতৃত্বে ভারতে হামলা চালানাের জন্য জোরকদমে প্রশিক্ষণ চলছে ফিদায়ে বাহিনীর। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাপ্রত্যাহারের পরই সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। জানা গিয়েছে, বালাকোটের পাশাপাশি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গুরমিত, উললাসের, তৌরাতের জঙ্গি ক্যাম্প পুনর্গঠনের পাশাপাশি ছাম, দুধনিয়াল, চিরিকোট, আথমুকামেও নতুন ক্যাম্প খুলে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে জইশ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad